ক্ষতিগ্রস্ত কোষ শুধু ওষুধে নিয়ন্ত্রণ নয়, প্রয়োজনে কোষের স্তরেই মেরামত বা প্রতিস্থাপন, স্টেম সেল গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানকে সেই দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ডেইলি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পাতার লেখায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ব্যাপক গবেষণা চললেও স্টেম সেলের সব ব্যবহার এখনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা নয়।
স্টেম সেল এমন বিশেষ কোষ, যা নিজের সংখ্যা বাড়াতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নানা পরিণত কোষে রূপ নিতে পারে; এ কারণেই এটি পুনর্জন্মমূলক চিকিৎসার ভিত্তি। এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস অস্থিমজ্জা ও রক্ত, নাভিরজ্জুর রক্ত, আর গবেষণায় ভ্রূণীয় স্টেম সেল ও প্ররোচিত বহুশক্তিসম্পন্ন স্টেম সেল (আইপিএসসি)। ত্বক, অন্ত্র বা চুলের গোড়ার মতো অঙ্গেও টিস্যু-নির্দিষ্ট কোষ আছে, তবে কোনো অঙ্গে স্টেম সেল আছে বলেই সেই অঙ্গের রোগ এখন সারানো যায়, এমন ধারণা ঠিক নয়।
সবচেয়ে সফল ও পুরোনো ব্যবহার রক্তগঠনকারী স্টেম সেল প্রতিস্থাপন (এইচএসসিটি)। লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া এবং কিছু গুরুতর রক্ত ও রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থার রোগে উপযুক্ত রোগীর জন্য এটি জীবনরক্ষাকারী হতে পারে।
কোষ ও জিন-চিকিৎসা ক্ষেত্রটিকে আরও এগিয়েছে। উদাহরণ ক্যাসজেভি (এক্সাগামগ্লোজিন অটোটেমসেল): রোগীর নিজের রক্তগঠনকারী স্টেম সেল সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট জিনে পরিবর্তন এনে আবার শরীরে ফেরানো হয়। সিকল সেল রোগ এবং রক্ত সঞ্চালননির্ভর বিটা-থ্যালাসেমিয়ায় এটি অনুমোদিত, যা আসলে জিন-সম্পাদিত স্টেম সেলভিত্তিক চিকিৎসা।
চোখে লিম্বাল স্টেম সেল ঘাটতির চিকিৎসায় চোখের লিম্বাস থেকে রোগীর নিজের কোষ নিয়ে পরীক্ষাগারে বাড়িয়ে কর্নিয়ার পৃষ্ঠ পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়; ইউরোপীয় ইউনিয়নে হোলোকার নামের চিকিৎসা রাসায়নিক বা শারীরিক কারণে চোখ পোড়ার পর নির্দিষ্ট মাত্রার ঘাটতিতে অনুমোদিত। গুরুতর পোড়ায়ও কোষভিত্তিক চিকিৎসা এগিয়েছে, তবে লেখায় সতর্ক করা হয়েছে, ‘স্টেম সেল দিয়ে নতুন ত্বক তৈরি’ কথাটি প্রায়ই অতিরঞ্জিত।
প্রতিবেদনটি ডেইলি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পাতার লেখা অবলম্বনে।
ছবি: Chad McNeeley, U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)