দক্ষিণ আফ্রিকার গমের জমিতে আগাছানাশক-প্রতিরোধী রাইগ্রাস দমনে এখন স্যাটেলাইটে তৈরি আগাছার মানচিত্র, ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্প্রেয়ার আর ফসল কাটার সময় আগাছার বীজ পুড়িয়ে ফেলার কৌশল পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশটির কৃষি পত্রিকা ফার্মার্স উইকলিতে বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন গ্লেনিস ক্রিল (Glenneis Kriel)।
সমস্যার মূলে আছে সংরক্ষণ কৃষি। স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Stellenbosch University) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের কৃষিবিজ্ঞানী লুইজ বেস্টবিয়ার (Louise Bestbier) বলছেন, আগে লাঙলের চাষে আগাছার বীজ মাটির গভীরে চাপা পড়ত। মাটি কম নাড়ানোর এই পদ্ধতিতে সেই কাজ নিয়েছে আগাছানাশক, আর বারবার একই রাসায়নিক দিলে প্রতিরোধী আগাছা বাড়ে। তাঁর মতে, শুধু স্প্রে নয়, কয়েকটি পদ্ধতি একসঙ্গে লাগাতে হবে।
সবচেয়ে সস্তা পথটি আসতে পারে মহাকাশ থেকে। ফার্মলিংক ক্যাপিটালের (FarmLink Capital) সহপ্রতিষ্ঠাতা টিয়ান ফেন্টার (Tiaan Venter) জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি উইডস্যাট (WeedSAT) ৩০ সেন্টিমিটার রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি থেকে ৩০ সেন্টিমিটার বা তার চেয়ে বড় আগাছা শনাক্ত করে স্প্রের মানচিত্র বানায়। সেকশন কন্ট্রোল থাকা সাধারণ স্প্রেয়ার সেই মানচিত্র ধরে শুধু আগাছার জায়গায় ওষুধ দেয়, বাড়তি ক্যামেরা বা সেন্সর লাগে না। ফার্মলিংক দেশটিতে এর স্থানীয় অংশীদার; ২০২৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে শীতকালীন বপন শুরুর আগে এটি বাজারে আনার লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীরা স্প্রে খরচ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমার কথা বলেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার পরীক্ষায় সাশ্রয় হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মতো। অস্ট্রেলিয়ায় খরচ হেক্টরপ্রতি ৪ থেকে ৭ অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৪৬ থেকে ৮১ র্যান্ড)। সীমাবদ্ধতাও আছে: ফসল বড় হয়ে গেলে প্রযুক্তিটি রাইগ্রাস আর গম আলাদা করতে পারে না, তাই এটি ফসল কাটার পরে বা বপনের আশপাশে ছড়ানো-ছিটানো আগাছার জন্য।
যন্ত্রের দিক থেকে সিএনএইচের (CNH) মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রিসিশন প্রযুক্তি প্রধান নিকো মেইবার্গ (Nico Myburgh) বলেন, অগমেন্টা (Augmenta) ব্যবস্থায়, যার ওপর সিএনএইচের সেন্সঅ্যাপ্লাই দাঁড়িয়ে, কেবিনে বসানো মাল্টিস্পেকট্রাল ক্যামেরা আর এআই চলন্ত অবস্থাতেই মাঠ দেখে স্প্রের মাত্রা ঠিক করে। "স্প্রেয়ার নিজেই মাঠ পর্যবেক্ষণের যন্ত্র হয়ে ওঠে," বলেন তিনি। র্যাভেনের হকআই ২ আলাদাভাবে ১৯২টি নজল চালাতে পারে। তাঁর হিসাবে রাসায়নিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমলেও হেক্টরপ্রতি কয়েকশ র্যান্ডের স্প্রে কর্মসূচিতে তা লাভজনক, তবে দামের কারণে দেশে এআই স্প্রে এখনো শুরুর পর্যায়ে।
পুরোনো কৌশলও নতুনভাবে ফিরছে। সোয়ার্টল্যান্ডের মুরিসবার্গের কাছে লাংগেভেন্স গবেষণা খামারে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কেইলেন ফান ভাইক (Kaylen van Wyk) দুই মৌসুম ধরে পরীক্ষা করেছেন: ফসল কাটার যন্ত্রের পেছনের নল দিয়ে আগাছার বীজভরা তুষ ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিমিটার চওড়া সরু সারিতে ফেলা, তারপর সেই সারি পোড়ানো। সারিতে তাপ ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ায়, যা রাইগ্রাসের বীজ নষ্ট করতে যথেষ্ট, আর পোড়ে আবাদি জমির ১০ শতাংশেরও কম। আগাছার সংখ্যায় পার্থক্য চোখে পড়লেও তা এখনো পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়; পোড়াতে অনুমতিপত্রও লাগে।
বেস্টবিয়ার আরও বলেন, বীজ আসার আগে কচি আগাছা ভেড়াকে খাওয়ানো, ঘন করে জোরালো জাত বোনা আর মিশ্র আচ্ছাদন ফসল আগাছার ওপর চাপ বাড়ায়। তাঁর কথায়, "প্রতিরোধের কারণে যা আর কাজ করছে না, সেটাই আরও বেশি করলে সমস্যার সমাধান হবে না।"
ছবি: Javier martin / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)