বাজারের একেবারে চূড়ায় ফসল বেচার চেষ্টা না করে দাম লাভজনক হলেই কিছু কিছু বিক্রি করা ভালো, এই পরামর্শ দিয়েছেন কানাডার শস্য বিপণন পরামর্শ প্রতিষ্ঠান অ্যাগচিভের (AgChieve) প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড ড্রোজড (David Drozd)। ৭ অক্টোবর ম্যানিটোবা কৃষি বিভাগের ক্রপটক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন বলে ম্যানিটোবা কো-অপারেটরে লিখেছেন ডন নরম্যান (Don Norman)। ড্রোজডের ভাষায়, "বিপণন মানে বেশি দামে বেচা, সুযোগ পেলে আরও বেশি দামে বেচা।"
তাঁর মতে, দাম আকর্ষণীয় হলে ধাপে ধাপে বিক্রি করে কিছু ফসল পরের দাম বাড়ার জন্য রেখে দিলে ঝুঁকি কমে, নগদ টাকার প্রয়োজন মেটে, আর দাম পড়ার সময় বেচতে বাধ্য হতে হয় না। বিক্রির পর দাম বাড়লে আফসোস না করে মনে রাখতে হবে, ভালো দাম পাওয়া গেছে আর বাকি ফসল আরও বেশি দামে বেচার সুযোগ আছে।
বাজার আগে যেখানে আটকে গিয়েছিল, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে সেই "প্রতিরোধ" স্তর খোঁজেন ড্রোজড। ম্যানিটোবায় সয়াবিনের নগদ দাম সম্প্রতি বুশেলপ্রতি ১৬.৫০ ডলারে উঠে আগের প্রতিরোধ স্তরের কাছে পৌঁছেছে, আর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের কিছু চুক্তিতে ১৭ ডলার পর্যন্ত দাম মিলছে; দাম পড়ার ঝুঁকি না নিয়ে এসব দামে বিক্রি নিশ্চিত করার পরামর্শ তাঁর। দক্ষিণ ম্যানিটোবায় ওটের বিশেষ দাম উঠেছে বুশেলপ্রতি ৫ ডলারে, যা গত কয়েক বছরে হাতে গোনা কয়েকবার দেখা গেছে। ৪০ বছর চার্ট দেখেও দাম প্রতিরোধ ভাঙবে কি না, তা নিশ্চিত বলা যায় না বলে স্বীকার করেন তিনি।
ভালো দাম চেনার শুরু উৎপাদন খরচ, বুশেলপ্রতি লাভ-ক্ষতির সমান দাম আর নগদ প্রয়োজনের হিসাব ধরে তৈরি বিপণন পরিকল্পনা থেকে। কতটা বেচবেন তা খামারভেদে আলাদা: কারও নতুন ফসলের জন্য গোলা খালি করতে হয়, কেউ ওট বেচে নগদ চাহিদা মিটিয়ে সয়াবিন ধরে রাখতে পারেন। মোটা দাগে অ্যাগচিভের পরামর্শ, ফসল তোলার আগে মোট ফসলের এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিক্রি নয়; গোলায় ওঠার পর সুযোগ বুঝে তা অর্ধেক পর্যন্ত হতে পারে।
ক্রেতার সঙ্গে লক্ষ্য দাম ঠিক করার সময় প্রত্যাশিত দামের একেবারে চূড়া নয়, মাঝামাঝি ধরলে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে বলেও মনে করেন তিনি।
ছবি: Martin Cathrae / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Manitoba Co-operator





মন্তব্য
(০)