কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের চিনির বাজার ঘাটতির আশঙ্কা থেকে কারখানার দামে বড় পতনে গিয়ে ঠেকেছে, জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। কেজিতে ৬৫-৬৭ রুপিতে ওঠা মিলগেট দাম নেমেছে প্রায় ৪৩-৪৪ রুপিতে; খুচরা দাম ধীরে নামছে, গড় এখন কেজি ৬২.৫৭ রুপি, এক সপ্তাহে ৩.৮৫ শতাংশ কম।
দাম বাড়ার পেছনে বাস্তব কারণ ছিল। ক্রিসিলের হিসাবে টানা দুই বছর উৎপাদন কমেছে, ২০২৪ মৌসুমে ৩ শতাংশ আর ২০২৫ মৌসুমে ১৮ শতাংশ, আর ইথানলে যাওয়া চিনি ২০২০ মৌসুমের প্রায় ৮ লাখ টন থেকে ২০২৬ মৌসুমে ৩০ লাখ টন ছাড়িয়েছে। সরকার চলতি মৌসুমের উৎপাদনের হিসাব ৩৪৩ লাখ টন থেকে কমিয়ে প্রায় ৩০৬ লাখ টন করে, উৎসবের চাহিদাও আসছিল, আর বিশ্ববাজারে দাম ৩০ জুনের টনপ্রতি ৪৭৪ ডলার থেকে ২০ আগস্ট ৫৫২ ডলারে ওঠে। ২০ জুলাই থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে কেজিতে দাম ৪৮.১৮ থেকে ৫৫.৭০ রুপি, এক মাসে ১৫.৬ শতাংশ বাড়ে।
সরকার ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লাখ টন শুল্কমুক্ত অপরিশোধিত চিনি আমদানির কোটা, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের ২০০ টনের মজুতসীমা, বড় ক্রেতাদের ১৫ দিনের বেশি মজুতে নিষেধ, সরেজমিন মজুত যাচাই আর সাপ্তাহিক হিসাব প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়। মহারাষ্ট্রের চিনি কমিশনার ড. সঞ্জয় কোলতে বলেন, কিছু ব্যবসায়ীর মজুতদারিতে দাম আরও বেড়েছিল, তবে সরবরাহে তাৎক্ষণিক সংকটের লক্ষণ নেই। চিনিকলগুলো ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখমাড়াই ১০-১৫ দিন এগিয়ে আনছে; তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে বিশেষ মাড়াই চলায় অক্টোবরে উৎপাদন স্বাভাবিক ৪ লাখ টনের জায়গায় প্রায় ১০ লাখ টন হবে বলে আশা।
এখন চাপ চিনিকলের ওপর। আখের দাম বাড়ছে, অথচ সাত বছর ধরে ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য বদলায়নি; ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন তা অন্তত কেজি ৪০.২ রুপি করে আখের দামের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে চায়। ক্রিসিলের ধারণা, ইথানল আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে ২০২৬ মৌসুমে মুনাফা মোটামুটি স্থির থাকবে। মহারাষ্ট্রে ১৫.৪৩ লাখ হেক্টরে আখ, প্রত্যাশিত চিনি প্রায় ১১২ লাখ টন, যে হিসাব রাজ্য পুনর্মূল্যায়ন করছে।
অ্যাগ্রোস্পেকট্রামের ভাষায়, প্রশ্ন এখন কম দামে চিনিকলগুলো কৃষকদের আখের দাম আর পরিচালন খরচ মেটাতে পারবে কি না।
ছবি: Shakher59 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)