অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রবাল ধ্বংসের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দায়ী করা হয় ক্রাউন-অব-থর্নস (crown-of-thorns) তারামাছকে। কিন্তু সংখ্যায় কম থাকলে এই কাঁটাওয়ালা শিকারি প্রাচীরের উপকারও করতে পারে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Sydney) গবেষকদের এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন (Ecology and Evolution) সাময়িকীতে।
গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব লাইফ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের হরাইজন ফেলো ড. শনা ফু (Shawna Foo)। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ান ট্রি আইল্যান্ড (One Tree Island) গবেষণাকেন্দ্রের আশপাশে তারামাছের খাওয়া পর্যবেক্ষণ করেন। জায়গাগুলো প্রাচীরের সংরক্ষিত অংশে, যেখানে মাছের সংখ্যা ভালো আর তারামাছ তুলনামূলক কম।
পর্যবেক্ষণ করা খাওয়ার ঘটনার প্রায় ৭৫ শতাংশেই প্রবালের জীবিত কলা টিকে ছিল। তারামাছ প্রতিবার মোটামুটি একই পরিমাণ খেয়ে সরে যায় বলে মনে হয়েছে; পুরো প্রবাল উপনিবেশ মেরে ফেলে না।
এদের প্রিয় খাবার দ্রুত বাড়া অ্যাক্রোপোরা (Acropora) প্রবাল। এগুলো খেয়ে কম সংখ্যার তারামাছ ধীরে বাড়া প্রবালের জন্য জায়গা খুলে দেয়। গবেষকেরা দেখেছেন, দ্রুত বাড়া অ্যাক্রোপোরিডি প্রবালের ক্ষতিগ্রস্ত টুকরো খাওয়া জায়গায় আর গজায়নি; নতুন বৃদ্ধি হয়েছে মূলত ধীরে বাড়া মন্টিপোরা (Montipora) ও পোরিটিস (Porites) প্রবালে।
গবেষণার সহলেখক অধ্যাপক মারিয়া বার্ন (Maria Byrne) বলেন, ফলাফলটি ‘ইন্টারমিডিয়েট ডিস্টার্বেন্স হাইপোথিসিস’-এর সঙ্গে মেলে। এই ধারণা অনুযায়ী, মাঝারি মাত্রার বিঘ্ন কোনো একটি প্রজাতিকে একচ্ছত্র হতে দেয় না, ফলে জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে।
তবে গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, তারামাছের প্রাদুর্ভাব এখনো বড় হুমকি। ১৯৬০-এর দশকের পর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে চারবার বড় প্রাদুর্ভাব হয়েছে, মোটামুটি প্রতি ১৫ বছরে একবার। ট্রাইটন শামুক ও কিছু প্রাচীর মাছের মতো প্রাকৃতিক শিকারি কমে যাওয়ায় প্রাচীর আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।
তাঁদের মতে, প্রাদুর্ভাব একবার নিয়ন্ত্রণে আনার পর তারামাছ পুরোপুরি নির্মূল করাই লক্ষ্য হওয়ার দরকার নেই। তারামাছ নিধনের পাশাপাশি এমন কঠোর সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা দরকার, যা এদের প্রাকৃতিক শিকারিদের রক্ষা করে।
গবেষণাপত্রের অন্য লেখকেরা হলেন ম্যাথিউ ক্লেমেন্টস, আদি জুইফলার, জর্জি এগলটন ও হেইডেন মিলিকান।
ছবি: Matt Wright / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: সায়েন্সডেইলি





মন্তব্য
(০)