বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের ১৭টিই দক্ষিণ এশিয়ায়, আর এ অঞ্চলের বায়ুদূষণের বড় একটি উপাদান হয়ে উঠেছে ব্ল্যাক কার্বন। রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে, ক্লিন এয়ার ফান্ডের সহযোগিতায় এক বিজ্ঞান-নীতি সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
মূল বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ব্ল্যাক কার্বন বা সুট কণা তৈরি হয় জীবাশ্ম জ্বালানি, জৈব জ্বালানি ও জৈব পদার্থের অসম্পূর্ণ দহনে। ডিজেলচালিত ইঞ্জিন, শিল্পকারখানা, ইটভাটা ও খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো এর বড় উৎস। সমান ভরের হিসাবে এর উষ্ণায়ন ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ১০০ থেকে ১ হাজার গুণ বেশি, তাই নিঃসরণ কমালে অল্প সময়েই সুফল মেলে।
তিনি জানান, বাতাসে ভেসে ব্ল্যাক কার্বন হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহে জমে; বরফ কালচে হয়ে বেশি রোদ শোষণ করে দ্রুত গলে, যার প্রভাব পড়ে লাখো মানুষের মিঠাপানিতে। এটি আঞ্চলিক জলচক্র, মেঘ তৈরি ও মৌসুমি বায়ুর ধরনও বদলে দিতে পারে। পিএম ২.৫-এর অংশ হিসেবে এর সূক্ষ্ম কণা শ্বাসতন্ত্র ও রক্তে ঢুকে শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।
অধ্যাপক সালামের হিসাবে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমির দূষিত বাতাস বাংলাদেশ পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে যায়, তখন কখনো কখনো পিএম ২.৫ প্রতি ঘনমিটারে ৫০০ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায়। ঢাকায় দূষণের উৎস হিসেবে তিনি যানবাহন, নির্মাণকাজ, সড়কের ধুলা, রান্নার ধোঁয়া, ইটভাটা, বর্জ্য পোড়ানো, কারখানা ও আন্তসীমান্ত দূষণের কথা বলেন।
সাফল্যের উদাহরণও দেন তিনি: ঢাকায় দুই স্ট্রোক ইঞ্জিন নিষিদ্ধ হওয়ার পর ব্ল্যাক কার্বনের ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে প্রায় ৪০ মাইক্রোগ্রাম থেকে নেমে এখন ৬ থেকে ১২ মাইক্রোগ্রাম। তাঁর সুপারিশ, যানবাহন ও কারখানার নিঃসরণ মানদণ্ড কার্যকর করা, পুরোনো যানবাহন বন্ধ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও গণপরিবহন, নির্মাণের ধুলা নিয়ন্ত্রণ, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ, ইটভাটায় পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা।
প্রধান অতিথি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের বিপর্যয় রাতারাতি সামলানো যাবে না, তবে চেষ্টা চলছে; তিন মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, এর মধ্যে ঢাকায় ২৯৬ মেগাওয়াট। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানের অধ্যাপক ওরিয়ান গুস্তাফসন বলেন, ব্ল্যাক কার্বন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।
ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)