দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে হাজারো ক্ষুদ্র কৃষক দক্ষতার সঙ্গে ফসল ফলান, গবাদিপশু পালেন, দুধ দোহান, মুরগি রাখেন। তবু অনেকে নগদ টাকার টানাটানি, বাড়তে থাকা ঋণ আর অনিশ্চিত মুনাফার চক্রে আটকে থাকেন। ফার্মার্স উইকলির খামার-অর্থায়ন বিষয়ক নতুন ধারাবাহিকের প্রথম লেখায় কোবুস দু প্লেসি (Cobus du Plessis) বলছেন, সমস্যা সাধারণত উৎপাদনের দক্ষতায় নয়, খামারটিকে ব্যবসা হিসেবে চালানোর ধরনে।
তাঁর বর্ণনায় ক্ষুদ্র কৃষক সাধারণত অল্প পুঁজি ও যন্ত্র নিয়ে ছোট পরিসরে চাষ করেন, পারিবারিক শ্রমের ওপর নির্ভর করেন, হিসাব রাখেন অনানুষ্ঠানিকভাবে, আর ফসল বেচেন প্রতিবেশী, ফেরিওয়ালা, কসাইয়ের দোকান, পৌর বাজার বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ীর কাছে। ক্ষুদ্র কৃষক মানেই অদক্ষ নন। তবে এসব খামার মূলত উৎপাদনকেন্দ্রিক থাকে: দাম ঠিক হয় প্রতিযোগী কত নিচ্ছে তা দেখে, প্রকৃত খরচ দেখে নয়; হিসাব অসম্পূর্ণ থাকে, সিদ্ধান্ত হয় পরিস্থিতির চাপে।
ধারাবাহিকটির মতে, বড় খামার, দামি যন্ত্র বা বেশি বিক্রি দিয়ে বাণিজ্যিক কৃষি চেনা যায় না; চেনা যায় ব্যবস্থা ও আর্থিক শৃঙ্খলা দিয়ে: বাজেট, রেকর্ড, মজুরি, কর, উৎপাদন বিশ্লেষণ, অর্থায়ন, মজুত নিয়ন্ত্রণ আর প্রতিটি উদ্যোগের মুনাফার হার ও নগদ প্রবাহ দেখে সিদ্ধান্ত। ক্ষুদ্র কৃষক ভাবেন কীভাবে আরও বেশি উৎপাদন করবেন, বাণিজ্যিক কৃষক ভাবেন কীভাবে একটি লাভজনক ও টেকসই কৃষি ব্যবসা গড়বেন। বেশি ফলন মানেই বেশি মুনাফা নয়, আর বিক্রির অঙ্ক মানেই হাতে নগদ নয়।
বদলের ধাপগুলোও লেখায় আছে। প্রথমে ঠিক করতে হবে কেমন ব্যবসা গড়ছেন, টিকে থাকার আয়ের জন্য না দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য। তারপর নিজের সংখ্যাগুলো জানতে হবে, কারণ যা মাপা হয় না তা সামলানো যায় না: উৎপাদন খরচ, মোট মুনাফার হার, ঋণ, মজুরি, প্রতিটি উদ্যোগের লাভ। অনেক নতুন কৃষক খুব আগেভাগে নানা কিছুতে হাত দেন; শক্ত ব্যবসা প্রায়ই গড়ে ওঠে আগে একটি লাভজনক ফসল, পশুপালন ব্যবস্থা বা নির্ভরযোগ্য বাজারে দক্ষ হয়ে।
বাড়ানোর আগে বিক্রির নিশ্চয়তা: কে কিনবে, কেমন মান ও মোড়ক লাগবে, কবে সরবরাহ, দাম কীভাবে ঠিক হয়, এসব আগে জানা চাই, কারণ নিশ্চিত বাজার ছাড়া উৎপাদন কৃষির সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। অন্য ফাঁদ নগদ প্রবাহ। লাভজনক খামারও টাকাশূন্য হয়ে পড়তে পারে, যখন বীজ বোনার খরচ, মজুরি, ঋণের কিস্তি আর ক্রেতার দেরিতে শোধ একই মৌসুমে এসে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনের চেয়ে নগদ প্রবাহই ঠিক করে খামার টিকবে কি না।
দু প্লেসি মনে করিয়ে দেন, একা কেউ বাণিজ্যিক খামার গড়েন না; হিসাবরক্ষক, অর্থদাতা, বাজার প্রতিনিধি, পরামর্শদাতা, কৃষক সংগঠন, উপকরণ সরবরাহকারী আর অভিজ্ঞ উৎপাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ ভুল এড়াতে সাহায্য করে। ধারাবাহিকটির লক্ষ্য খামার-অর্থায়নকে সহজ ও কাজে লাগার মতো করে তোলা।
ছবি: Alandmanson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)