মৌসুম বদল, স্থানীয় আবহাওয়া আর মাসের শেষে বাড়তি চাহিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার তাজা কৃষিপণ্যের বাজারে দাম ওঠানামা করছে। এগ্রিকালচারাল মার্কেট ট্রেন্ডসের (AMT) সাপ্তাহিক গ্রাউন্ডরুলস বাজার বিশ্লেষণে কৃষি অর্থনীতিবিদ কনসে মোরাবা বলেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহ দামের জন্য অনেক বেশি সহায়ক হতে পারে। চাহিদা বাড়ছে, অথচ সরবরাহ এখনো কম।’
সপ্তাহের সবচেয়ে বড় উত্থান টমেটোর: বাজারে সরবরাহ ১৯ শতাংশ কমায় দাম ৩৮ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ৮.৫০ র্যান্ড। মোরাবার ব্যাখ্যা, উৎপাদন শীতের এলাকা থেকে গ্রীষ্মের এলাকায় সরছে, আর এই হাতবদলে প্রতিবছরই সাময়িক ঘাটতি হয়। তবে অনানুষ্ঠানিক বাজারে চাহিদা দুর্বল থাকলে বা পরে সরবরাহ বাড়লে দাম দ্রুত থমকে যেতে পারে।
আলুর ক্রেতারা মাল পেতে হিমশিম খেয়েছেন, ফলে ১০ কেজির বস্তার গড় দাম উঠেছে ৬৭.১৯ র্যান্ডে; সিফ্রা জাত গড়ে ৬৪, প্রথম শ্রেণির বড় মন্ডিয়াল ৮০ আর মাঝারি মন্ডিয়াল ৭১ র্যান্ড। দেশটি এখন দুই প্রধান উৎপাদন অঞ্চলের মাঝামাঝি সময়ে থাকায় সোমবার সকালেই জোহানেসবার্গ ফ্রেশ প্রোডিউস মার্কেটে আলু শেষ হয়ে যায়। লিম্পোপোতে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাসে ফসল তোলা ও পরিবহন ধীর হতে পারে, তাই দুই সপ্তাহ দাম চড়া থাকবে বলে ধারণা।
সবচেয়ে নজরে রাখার পণ্য পেঁয়াজ। গড় দাম সামান্য কমে ১০ কেজিতে ১৫৩.২৬ র্যান্ড হলেও তা আগের বছরের চেয়ে ২৬৪ শতাংশ বেশি, কারণ ভেজা আবহাওয়ায় রোপণ পিছিয়ে সরবরাহ ৩৪ শতাংশ কমেছে। মোরাবা বলেন, ‘ঘাটতি এখন শেষের দিকে বলে মনে হচ্ছে।’ সরবরাহ জোরালোভাবে বাড়লে দাম দ্রুত পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ফলের মধ্যে সরবরাহ বাড়ায় কলার দাম ১৫ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ৯.৫০ র্যান্ড, উৎসবের মৌসুমের দিকে আপেল (১০.৪৭) ও নাশপাতি (৯.৪৬) দাম ধরে রেখেছে। দেশে বেশি সরবরাহ ও রপ্তানির মানজনিত সমস্যায় কমলা নেমেছে কেজিপ্রতি ২.৩৯ র্যান্ডে, এক বছর আগের চেয়ে ৫৩ শতাংশ সস্তা; তবে সাপ্তাহিক সরবরাহ ২০ শতাংশ কমায় দাম ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ফুড ফর মজানসি।
ছবি: Guinivere Pedro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)