সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৫৯%বাতাস ১০ কিমি/ঘ

বারোমাসি লেবু চাষে সফল কালীগঞ্জের সোহান

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়াখোলা গ্রামের মো. মোনাব্বরের ছেলে সোহান। পেশায় তিনি ইলেকট্রিশিয়ান। তবে কৃষি তার শখের জায়গা। শখের বশেই করেছেন বারোমাসি লেবু বাগান। এখন তিনি সফল একজন লেবু চাষি। তাকে দেখে এগিয়ে আসছেন আশেপাশের বেকার যুবকরা।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়াখোলা গ্রামের মো. মোনাব্বরের ছেলে সোহান। পেশায় তিনি ইলেকট্রিশিয়ান। তবে কৃষি তার শখের জায়গা। শখের বশেই করেছেন বারোমাসি লেবু বাগান। এখন তিনি সফল একজন লেবু চাষি। তাকে দেখে এগিয়ে আসছেন আশেপাশের বেকার যুবকরা।

সোহান বলেন, 'আমি যার কাছে ইলেকট্রিক কাজ শিখতাম, তার কাছে আমার ৮৫০ টাকা মজুরি বাকি ছিল। তিনিও কাজের পাশাপাশি বারোমাসি বিভিন্ন জাতের লেবু চাষ করতেন। আমার কাজের মজুরি দিতে দেরি হওয়ায় টাকার পরিবর্তে ওই পরিমাণ ২০টি লেবু চারা দিতে বলি। তিনি আমাকে ৩টি জাতের ২০টি লেবু চারা দেন। সেটা ২০১৭ সালের কথা। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে ওই লেবু চারা নিয়ে ৫ শতক জমিতে চাষ শুরু করি।'

তিনি বলেন, 'এখন আমার বাগানে ৯ জাতের ৫০টিরও বেশি বারোমাসি লেবু গাছ আছে। বারোমাসি লেবু চারা ছাড়া অন্যগুলো কেটে ফেলেছি। এখন শুধু বারোমাসি লেবুর গাছ আছে। অসময়ে লেবু বিক্রির পাশাপাশি লেবুর চারা বিক্রি করে অনেক ভালো আছি। আমার বাড়ির ও গ্রামের আশেপাশের প্রতিবেশী ও বেকার যুবকরা আমার কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ নিয়ে লেবু চাষ শুরু করেছেন।'

সোহান আরও বলেন, 'ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে লেবুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তখন প্রতিটি লেবু ৭-১০ টাকা দরে বিক্রি করি। ওই ৩ মাসে লেবু বিক্রি করে ভালো টাকা আয় হয়। তাছাড়া অফ সিজনে ১ হালি লেবু ৩-৪শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পাশাপাশি লেবু গাছের কাটিং বিক্রি করেও ভালো আয় হয়।'

তিনি বলেন, 'পাইকাররা বাগানে এসে নগদ টাকায় লেবু কিনে নিয়ে যান। তারা স্থানীয় বাজার এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন। কিছু লেবুর জাতে কোনো বিচি নেই। এ ছাড়া লেবুতে প্রচুর রস আছে। বাজারে আমার লেবুর ব্যাপক চাহিদা আছে। লেবুর বাগান করে আমি লাভবান হয়েছি।'

জানা যায়, কলম্বো, কাগজি, হাইব্রিড কাগজি, গোল কাগজি, সিডলেস, চায়না থ্রি, গন্ধরাজ, জারা ও এলাচি জাতের বারোমাসি লেবু চাষে লাভবান হয়েছেন সোহান। এ লেবু গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও যায়। এ লেবু বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতরাও ভালো টাকা আয় করছেন।

শিক্ষক মিজানুর রহমান মোড়ল বলেন, 'সোহান যে বারোমাসি লেবু চাষ করে, সেটার অফ সিজনে প্রচুর দাম থাকে। এ ছাড়া সিজনেও ভালো বিক্রি হয়। এ লেবুতে প্রচুর ঘ্রাণ ও রস। তার এ লেবু চাষ দেখে আশেপাশের বেকার যুবকরাও এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।'

সৌদি আরব ফেরত শাহিন মিয়া বলেন, 'আমি সাড়ে ৪ বছর সৌদি আরব ছিলাম। এখন আর যাবো না। সোহান ভাইয়ের লেবু বাগানের কথা শুনে দেখতে এলাম। আমিও একটি লেবু বাগান করতে আগ্রহী। তার কাছ থেকে ৩ জাতের কিছু লেবু চারা নিয়ে ১ একর জমিতে চাষ শুরু করবো।'

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, 'সোহান একজন সফল কৃষক। সে ৮-১০ জাতের লেবু চাষ করে। প্রবাসীরা যাওয়ার সময় সোহানের কাছ থেকে লেবু কিনে নিয়ে যায়। এ ছাড়া স্থানীয় পাইকাররা তার বাড়িতে এসে নিয়ে যায়।'

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা তাসলিম বলেন, 'সোহান আমাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় লেবু বাগান করেছেন। ৮ বছর আগে ৩ জাতের বারোমাসি লেবু চাষ শুরু করেন। এখন তিনি সফল লেবু চাষি। তার লেবু বাগান থেকে প্রচুর আয় হচ্ছে। তার দেখাদেখি অনেকেই এখন লাভজনক বারোমাসি লেবু চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।'

আব্দুর রহমান আরমান/এসইউ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোবিজ

সংকট নেই বলছে মন্ত্রণালয়, তবু বস্তা ১৭০০ টাকা: সার নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের রিপোর্টে সদস্যরা বলেছেন, পর্যাপ্ত মজুতের পরও বিতরণের দুর্বলতা, কালোবাজারি ও পাচারে কৃষক ভুগছেন; নজরদারি ও ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতার সুপারিশ এসেছে।

ঢাকা পোস্ট৫ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

চলনবিলে কচুরিপানা মারতে আগাছানাশক, হুমকিতে মাছ-পাখি; কৃষি বিভাগ বলছে সার বানান

সিংড়াসহ চলনবিলের ৫-৬ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানায় রবি চাষ অনিশ্চিত; বিঘায় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ এড়াতে কৃষকদের একাংশ আগাছানাশক দিচ্ছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ প্রাণী।

কৃষি সময়৫ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
গ্যালারি

ছবির গল্প: সিলেটের পাহাড়ের কোলে পাকছে আমন, দুয়ারে নবান্ন

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ের পাদদেশে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে, কোথাও শুরু হয়েছে কাটা; প্রথম আলোর আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদের ছবিতে হেমন্তের মাঠ ও নবান্নের প্রস্তুতি।

প্রথম আলো৫ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)