দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও মাঠে কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগে সার বিতরণে নজরদারি জোরদার, ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ১৬ সেপ্টেম্বর কমিটির প্রথম বৈঠকের রিপোর্টের বরাতে ঢাকা পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন।
কৃষিসচিব মো. সেলিম খান বৈঠকে বলেন, উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ কোথাও সংকট নেই, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এবার বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। অভিযোগের কারণ হিসেবে তিনি নতুন বিতরণ নীতিমালা, ডিলারদের ব্যবসায়িক বিরোধ, কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা, খুচরায় বেশি দাম, কালোবাজারে পাচারের চেষ্টা এবং রবি মৌসুমের আগাম মজুত ঘিরে আতঙ্কের কথা বলেন।
সচিব জানান, সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মনিটরিং সেল চলছে, ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলায় পাঁচজন কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও পাঁচজন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ডিলারকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার হতে হবে, শর্ত পূরণ না করা বহিরাগত ডিলারের লাইসেন্স পর্যায়ক্রমে বাতিল হবে।
সদস্যরা মাঠের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভিন্ন চিত্র দেন। মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমন মৌসুমে কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাননি, প্রতি বস্তা ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত দামে কেনার অভিযোগও আছে। গোলাম রছুল জানান, বাগারপাড়ায় পাচারের অভিযোগে দুই থেকে তিনটি সারবোঝাই ট্রাক আটক হয়েছে এবং ৩৭ জন ডিলারের প্রায় ২০ জনই স্থানীয় নন। মো. রোকন উদ্দীন বাবুলের ভাষ্য, নীলফামারীতে কোনো কোনো মাসে ডিলারদের বরাদ্দ কমানো হচ্ছে।
সদস্যরা উপজেলা ও জেলায় তদারকি জোরদার, পাচার বন্ধ, চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ এবং মনিটরিং সেলের কর্মকর্তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর সংসদ সদস্যদের দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। বৈঠকে যুগ্ম সচিব মো. নুরুজ্জামান মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন, যার মধ্যে আছে কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বিএমডিএ পুনঃসচলকরণ।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট




মন্তব্য
(০)