"তাই না দেখে ভোঁদড় নাচে", লোকছড়ার এই লাইন অনেকেরই চেনা, কিন্তু ছড়ার সেই ভোঁদড় আজকের প্রজন্মের অনেকে চোখেই দেখেনি। জলাভূমি ধ্বংস আর মানুষের অসচেতনতায় দেশের পরিবেশ থেকে প্রাণীটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
প্রাণীটির ইংরেজি নাম স্মুথ-কোটেড অটার, বৈজ্ঞানিক নাম লুট্রোগেল পার্সপিসিলাটা। জায়গাভেদে একে উদবিড়াল, উদ, ধেড়ে, উদবিলাই বা মাছ নেউলও বলা হয়। একসময় দেশের প্রায় সব অঞ্চলে জেলেদের মাছ ধরার সহযোগী ছিল এই প্রাণী। দেখতে বেজির মতো, দলবেঁধে থাকে, প্রিয় খাবার কাঁচা মাছ, আর নদীর জোরালো স্রোতেও অনায়াসে সাঁতার কাটে।
দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাবারের খোঁজে ভোঁদড় পানির ৬০ ফুট গভীর পর্যন্ত ডুব দিতে পারে, পানির নিচে আট মিনিট পর্যন্ত দম ধরে রাখতে পারে। সিলেট, খুলনা, নড়াইলসহ পূর্বাঞ্চলের হাওর, নদী, খাল, বিল, প্লাবনভূমি ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে একসময় প্রচুর দেখা যেত; এখন দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রূপসপুর গ্রামের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে একটি ভোঁদড় আছে। ফাউন্ডেশনের পরিচালক সঞ্জিত দেব জানান, ২০১৬-১৭ সালের দিকে হাইল হাওরে জেলেদের জালে অসুস্থ অবস্থায় এটি আটকা পড়েছিল; উদ্ধার ও চিকিৎসার পর থেকে সেখানেই রাখা হয়েছে, সঙ্গী না থাকায় কোথাও অবমুক্ত করা যায়নি।
সঞ্জিত দেবের মতে, ভোঁদড় পুকুর বা জলাশয়ের সব মাছ খেয়ে ফেলে, এই ভুল ধারণায় মানুষ অবাধে প্রাণীটিকে মারছে; কেউ কেউ চামড়া দামি ভেবে লোভে মারছে। এর সঙ্গে আছে আবাসস্থল ধ্বংস ও বদলে যাওয়া, যা সংখ্যা কমার আরেকটি বড় কারণ।
ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক চয়ন বিকাশ ভদ্র বলেন, জলজ পরিবেশ ধ্বংসের কারণে ভোঁদড় এখন বিলুপ্তির পথে; গ্রামের বড় পুকুর, দিঘি, বিল ও হাওরে এদের আর তেমন দেখা যায় না। তবে সুন্দরবনে ভোঁদড় এখনো টিকে আছে। প্রাণীটি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদন: ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার, দেশ রূপান্তর।
ছবি: মসৃণ-লোম ভোঁদড় (হো চি মিন সিটি চিড়িয়াখানা), Diego Delso / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)