২৭ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব যখন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আবহাওয়া মডেলগুলো ইঙ্গিত দিতে শুরু করে যে কয়েক দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে আরেকটি ঝড় তৈরি হতে পারে। ডাউন টু আর্থ এ খবর দিয়ে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ঝড়টি অনিশ্চিত এবং এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, অর্ণব দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করেছে: ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গতি বেড়েছে ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫০-১৬০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া ১৮০ কিলোমিটার। সেদিন দুপুর আড়াইটায় ঝড়টি কাকিনাড়া থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল, পশ্চিমে এগোচ্ছিল ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার বেগে। আইএমডির পূর্বাভাস ছিল, ২৮ অক্টোবর দুপুরের আগে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যে ইয়ানামের কাছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উপকূল অতিক্রম করবে, তখন বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার, দমকা ১৫০ কিলোমিটার। মার্কিন নৌবাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার অর্ণবের গতি অনেক বেশি ধরেছে: ঘণ্টায় ২১৩ কিলোমিটার, দমকা ২৫৯ কিলোমিটার।
আইএমডি ২৬ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তামিলনাড়ু উপকূলে আরেকটি লঘুচাপের কথা জানিয়েছিল। আবহাওয়া ব্লগ ভ্যাগারিজ অব ওয়েদার ডাউন টু আর্থকে জানায়, পরদিন সকালে সেটি দুর্বল হয়ে গেছে এবং মিলিয়ে যেতে পারে। ইউরোপীয় মধ্যমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের (ইসিএমডব্লিউএফ) মডেলে দেখা গিয়েছিল, এটি অর্ণবকে ঘিরে ঘুরে ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় অন্ধ্রপ্রদেশ-ওডিশা সীমান্তের কাছে উপকূলে উঠতে পারে; তবে একই মডেল অর্ণবের আগাম স্থলভাগে আঘাতের পূর্বাভাসও দিয়েছিল, যা ঘটেনি।
ভ্যাগারিজ অব ওয়েদার আরেকটি সম্ভাবনার কথা বলছে: অর্ণবের পরপরই দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন লঘুচাপ তৈরি হয়ে ১-২ নভেম্বর নাগাদ ওডিশা উপকূলের দিকে যেতে পারে। আইএমডির গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম, ইসিএমডব্লিউএফ ও ভারত ফোরকাস্টিং সিস্টেমসহ কয়েকটি মডেলে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেছে।
আইএমডি জানিয়েছে, বিশাখাপত্তনমের ডপলার রাডার দিয়ে অর্ণবকে সারাক্ষণ নজরে রাখা হচ্ছে। সংস্থাটির পরের হালনাগাদ তথ্যে অর্ণবের গতিপথ এবং দ্বিতীয় ঝড় তৈরি হবে কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অক্ষিত সাঙ্গমলা।
ছবি: Jeff Schmaltz, MODIS Rapid Response Team, NASA (২০০৬ সালে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় মালা) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)