দাম বাড়ার আশায় হিমাগারে আলু রেখে বড় লোকসানের মুখে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উপজেলার ৯টি হিমাগারে এখনো প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার বস্তা (৫০ কেজি) আলু মজুত আছে। বস্তাপ্রতি ৭০০ টাকা লোকসান ধরলে ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।
হিসাবটা এমন: বীজ, সার, কীটনাশক ও মজুরি মিলিয়ে এক বস্তা আলু মাঠ থেকে হিমাগারে পৌঁছাতে খরচ ৬০০ টাকা, খালি বস্তা ৮০ টাকা, হিমাগার ভাড়া ৩০০ টাকা; মোট প্রায় ৯৮০ টাকা। অথচ হিমাগার থেকে বের করে শ্রমিক ও গাড়িভাড়া দিয়ে বাজারে সেই বস্তা বিকোচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকায়, অর্থাৎ বস্তায় লোকসান ৬৮০ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যে, গত বছর সিরাজদীখানে ৮ হাজার ৯৫৮ হেক্টরে আলু আবাদ হয়ে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ২ হাজার ৭৫ টন। অনেকে মাঠেই বিক্রি করলেও বেশি লাভের আশায় অনেকে হিমাগারে রেখেছিলেন। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আলু বের না করলে সংরক্ষণের মেয়াদ শেষ হবে, আর নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হবে নতুন আলুর বুনন।
লতাব্দী ইউনিয়নের আলু ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন রন্টু নাহার, নেপচুন ও সম্রাট হিমাগারে ৮ হাজার বস্তা রেখেছিলেন; বিক্রি হয়েছে মাত্র এক হাজার বস্তা, প্রায় ৫০ লাখ টাকার লোকসানের মুখে তিনি। বয়রাগাদির ভূঁইরা গ্রামের দরবেশ আলী নাহার কোল্ড স্টোরেজে রাখা ৭ হাজার বস্তার ৪ হাজার লোকসানে বেচেছেন, বাকি ৩ হাজার বস্তা এখনো পড়ে আছে।
হিমাগার মালিকেরাও চাপে। ফয়েজ কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক শাহ আলম জানান, তাঁদের এক লাখ পাঁচ হাজার বস্তার মধ্যে ৫৫ হাজার বস্তা রয়ে গেছে, ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে কেউ নিতে চাইছেন না। নাহার কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আরশাদ হোসেনের হিসাবে সেখানে এখনো প্রায় ৬০ হাজার বস্তা আছে, চুক্তি অনুযায়ী আগামী মাসে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও কেউ নিচ্ছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় গত বছর উৎপাদন বেশি হয়েছে, আর চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদনে প্রতিবছরই কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই স্থানীয় জাতের বদলে রপ্তানিযোগ্য জাতের আলু চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন: ইমতিয়াজ বাবুল, সমকালের সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি।
ছবি: বস্তাভর্তি আলু (প্রতীকী), Sargoth / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)