আমদানিনির্ভরতা কমাতে পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের তৃতীয় জেলা রাজবাড়ীতে চলতি মৌসুমে আবাদ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে কৃষি বিভাগ। রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হাজার ৯৩২ হেক্টর, গত বছর যত জমিতে আবাদ হয়েছিল ঠিক ততটাই। কৃষকদের উৎসাহ দিতে বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে হালি পেঁয়াজ ৩৪ হাজার ৭৭৮ হেক্টর, মুড়িকাটা ৬ হাজার ১৩ হেক্টর এবং কদম পেঁয়াজ ১৪১ হেক্টর। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩৩ হেক্টরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগানো হয়েছে: গোয়ালন্দে ৯১১, কালুখালীতে ৭৫০, বালিয়াকান্দিতে ১৫০, পাংশায় ৮০ ও সদরে ৪২ হেক্টর। আগাম পেঁয়াজে এগিয়ে গোয়ালন্দ ও কালুখালী; হালি পেঁয়াজের চাষ শুরু হবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে।
গোয়ালন্দের উজানচরের কৃষক হাবিল মন্ডল বাসসকে বলেন, পেঁয়াজ এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল, অনেকের সংসার চলে এর আয়ে। কিন্তু বীজ, সার, কীটনাশক আর মজুরির খরচ বাড়ছে; সময়মতো উপকরণ, সরকারি সহায়তা আর ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষকেরা আরও বেশি জমিতে চাষ করবেন।
রাজবাড়ী সদরের বরাট ইউনিয়নের নয়নসুখ গ্রামের গোলাম মোস্তফার মতে, ভালো ফলনের জন্য সময়মতো জমি তৈরি, ভালো বীজ ও সঠিক পরিচর্যা দরকার; কিন্তু খরচের সঙ্গে বাজারদরের মিল না থাকলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। সহজ শর্তে উপকরণ আর পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা চান তিনি।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাইম আহম্মেদ বলেন, উৎপাদন কমে যাওয়া, সংরক্ষণ বা পরিবহনের সমস্যা কিংবা সরবরাহ ঘাটতিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে; তাই আগাম মুড়িকাটার পাশাপাশি সময়মতো হালি পেঁয়াজের চাষ নিশ্চিত করতে হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনামুল হক জানান, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, বিনামূল্যের বীজ, সার ও প্রণোদনা বাস্তবায়িত হলে উৎপাদনে গতি আসবে।
প্রতিবেদন: বাসস, রাজবাড়ী।
ছবি: বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন, Shmunmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)