সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৫২%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

শুধু কৃষকের সহনশীলতায় কৃষির প্রবৃদ্ধি টিকবে না: দক্ষিণ আফ্রিকার এগ্রিএসএ সম্মেলন

ভাঙা সড়ক, বন্দর আর দুর্বল সরকারি সেবার ঘাটতি কৃষকেরা অনন্তকাল পুষিয়ে দিতে পারবেন না; সরকারি অর্থ কতটা ফল দিচ্ছে তার হিসাব চাই, বললেন অর্থনীতিবিদ ওয়ান্ডিলে সিহলোবো ও সম্প্রচারক লুরেনসা একার্ড।

দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি খাত সরকারের ব্যর্থতা কৃষকের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে বেশি দিন বাড়তে পারবে না; সরকারি তহবিল ও কৃষিনীতির মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার ফলাফল দিয়ে। ১৪ অক্টোবর গাউতেংয়ের আইরিন কান্ট্রি হোটেলে এগ্রিএসএ (AgriSA)-র বার্ষিক সম্মেলনের এক আলোচনায় এই বার্তাই উঠে আসে। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কানিতা হান্টার (Qaanitah Hunter)।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ওয়ান্ডিলে সিহলোবো (Wandile Sihlobo) সরকার ছাড়া কৃষি এগোতে পারে, এই ধারণা নাকচ করেন। তাঁর কথায়, সরকারের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো দেশের কৃষি বা রপ্তানি খাত সফল হতে পারে না। তিনি জানান, ১৯৯৪ সালের পর দেশটির কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে; কৃষি রপ্তানি ২০০০ সালের প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩,৩০০ কোটি র‍্যান্ড) থেকে ২০২৫ সালে ১,৫১০ কোটি ডলারে (২৪,৮০০ কোটি র‍্যান্ড) পৌঁছেছে। এর পেছনে সরকারের বাণিজ্য চুক্তি, কৃষিপ্রযুক্তির নিবন্ধন আর বাজার খোলা রাখার ভূমিকাও ছিল। তাই প্রশ্নটা সরকার থাকবে কি না তা নয়, সরকার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না।

সম্প্রচারক লুরেনসা একার্ড (Lourensa Eckard) বলেন, ইউরোপের কৃষকদের তুলনায় অনেক কম সহায়তা পেয়ে টিকে থাকতে গিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকেরা সহনশীল হয়েছেন। কিন্তু সহনশীলতা মানে সীমাহীন খরচ ও দায় বয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা নয়। প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকেরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন ও প্রতিনিধিত্বহীন মনে করেন, ফলে তাঁরা সম্মিলিত উদ্যোগের বদলে একা সমাধান খুঁজতে পারেন। শুধু জমি হস্তান্তর আর আর্থিক সহায়তা দিয়ে নতুন কৃষকের সাফল্য আসবে না, যদি ভাঙা সড়ক ও অচল বন্দর তাঁদের পণ্য বাজারে পৌঁছাতে না দেয়। যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁরা নিজেরাই নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সেবার ব্যবস্থা করছেন, এই প্রবণতাকে তিনি পুরোপুরি টেকসই নয় বলে সতর্ক করেন।

দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রশ্নে সিহলোবো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির পক্ষে থাকলেও স্পষ্ট সীমারেখার কথা বলেন। সুরক্ষা ছাড়া বেসরকারি সংগঠন সরকারের কাজ হাতে নিলে জবাবদিহি ও নীতিতে অযাচিত প্রভাবের প্রশ্ন উঠতে পারে। সরকার ও শিল্পের কাঠামোবদ্ধ আলোচনার জন্য তিনি ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কাউন্সিলের মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, আর কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এমন বর্ণনা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে সতর্ক করেন।

একার্ড বলেন, অনুদান, ভূমি সংস্কার ও অন্যান্য সহায়তা সত্যিই উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে কি না, সেদিকে নজর বাড়াতে হবে; উৎপাদনশীল কৃষিকে পুরস্কৃত করতে কর-প্রণোদনার কথাও তোলেন তিনি। সিহলোবোর মতে, সাশ্রয়ী অর্থায়ন, জমি, দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদন বাড়ানোর মূল শর্ত। ল্যান্ড ব্যাংকসহ মিশ্র অর্থায়ন বাড়ানোর পক্ষে থাকলেও তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু টাকা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই কৃষক তৈরি হয় না। কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ মাস্টারপ্ল্যানে কাঠামো আগেই আছে, ঘাটতি বাস্তবায়নে।

দুজনই পৌরসভার ভূমিকার কথা বলেন। একার্ডের মতে, স্থানীয় সেবা গ্রামীণ অর্থনীতির টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য; সিহলোবো জরুরি সংস্কারের দরকার হিসেবে পৌর তাজা পণ্যের বাজারের কথা তোলেন। সংগঠিত কৃষি প্রসঙ্গে একার্ড বলেন, এসব সংগঠনের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই, সড়ক বা বন্দরের দায় তাদের নয়, তবে সদস্যদের কাছে তারা জবাবদিহি করতে বাধ্য। সিহলোবো বলেন, এগ্রিএসএর মতো ছাতা সংগঠন সরকারের সামনে শিল্পের অবস্থান এক করতে সাহায্য করতে পারে।

সম্মেলনের প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্মার্স উইকলির হানলি দু প্লেসি (Hanlie du Plessis)।

সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা

ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকাসূত্র

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

পাটবীজ, আঁশের ফলন ও বহুমুখী পণ্যে চীনের প্রযুক্তি: জেডিপিসি-জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয় সমঝোতা

জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার ও চীনের জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয় পাটের উন্নত বীজ, উৎপাদনশীলতা ও বহুমুখী ব্যবহারে যৌথ গবেষণার সমঝোতা স্মারক সই করেছে; পাটমন্ত্রী বলেছেন, অর্থের চেয়ে প্রযুক্তিই বেশি দরকার।

মানবজমিন১৮ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফল

জয়পুরহাটের দুর্গাদহ হাটে দিনে কোটি টাকার কলা, তবু কাদির দাম কমেছে

উত্তরাঞ্চলের বড় কলার হাট জয়পুরহাটের দুর্গাদহে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক কলা দেশের নানা জেলায় যায়; তবে দুই সপ্তাহে কাদির দাম ৩০০-৪০০ টাকা থেকে নেমে ২০০-২৫০ টাকায়, আর হাটের জায়গা ছোট।

কৃষি সংবাদ১৮ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

আখের দাম কুইন্টালে ৫৭৫ রুপি দাবি কিষান সভার, রমেশ চাঁদ কমিটি নিয়ে প্রশ্ন

নিখিল ভারত কিষান সভার দাবি, সরকারি ৩৬৫ রুপি দাম চাষের খরচ কম দেখায়; চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য কেজিতে ৩১ থেকে ৫০ রুপি এবং সব ফসলে সি২+৫০ শতাংশ হারে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য চায় সংগঠনটি।

Rural Voice১৮ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)