দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষি খাত সরকারের ব্যর্থতা কৃষকের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে বেশি দিন বাড়তে পারবে না; সরকারি তহবিল ও কৃষিনীতির মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার ফলাফল দিয়ে। ১৪ অক্টোবর গাউতেংয়ের আইরিন কান্ট্রি হোটেলে এগ্রিএসএ (AgriSA)-র বার্ষিক সম্মেলনের এক আলোচনায় এই বার্তাই উঠে আসে। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কানিতা হান্টার (Qaanitah Hunter)।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ওয়ান্ডিলে সিহলোবো (Wandile Sihlobo) সরকার ছাড়া কৃষি এগোতে পারে, এই ধারণা নাকচ করেন। তাঁর কথায়, সরকারের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো দেশের কৃষি বা রপ্তানি খাত সফল হতে পারে না। তিনি জানান, ১৯৯৪ সালের পর দেশটির কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে; কৃষি রপ্তানি ২০০০ সালের প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩,৩০০ কোটি র্যান্ড) থেকে ২০২৫ সালে ১,৫১০ কোটি ডলারে (২৪,৮০০ কোটি র্যান্ড) পৌঁছেছে। এর পেছনে সরকারের বাণিজ্য চুক্তি, কৃষিপ্রযুক্তির নিবন্ধন আর বাজার খোলা রাখার ভূমিকাও ছিল। তাই প্রশ্নটা সরকার থাকবে কি না তা নয়, সরকার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না।
সম্প্রচারক লুরেনসা একার্ড (Lourensa Eckard) বলেন, ইউরোপের কৃষকদের তুলনায় অনেক কম সহায়তা পেয়ে টিকে থাকতে গিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকেরা সহনশীল হয়েছেন। কিন্তু সহনশীলতা মানে সীমাহীন খরচ ও দায় বয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা নয়। প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকেরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন ও প্রতিনিধিত্বহীন মনে করেন, ফলে তাঁরা সম্মিলিত উদ্যোগের বদলে একা সমাধান খুঁজতে পারেন। শুধু জমি হস্তান্তর আর আর্থিক সহায়তা দিয়ে নতুন কৃষকের সাফল্য আসবে না, যদি ভাঙা সড়ক ও অচল বন্দর তাঁদের পণ্য বাজারে পৌঁছাতে না দেয়। যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁরা নিজেরাই নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সেবার ব্যবস্থা করছেন, এই প্রবণতাকে তিনি পুরোপুরি টেকসই নয় বলে সতর্ক করেন।
দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রশ্নে সিহলোবো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির পক্ষে থাকলেও স্পষ্ট সীমারেখার কথা বলেন। সুরক্ষা ছাড়া বেসরকারি সংগঠন সরকারের কাজ হাতে নিলে জবাবদিহি ও নীতিতে অযাচিত প্রভাবের প্রশ্ন উঠতে পারে। সরকার ও শিল্পের কাঠামোবদ্ধ আলোচনার জন্য তিনি ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কাউন্সিলের মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের প্রস্তাব দেন, আর কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এমন বর্ণনা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে সতর্ক করেন।
একার্ড বলেন, অনুদান, ভূমি সংস্কার ও অন্যান্য সহায়তা সত্যিই উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে কি না, সেদিকে নজর বাড়াতে হবে; উৎপাদনশীল কৃষিকে পুরস্কৃত করতে কর-প্রণোদনার কথাও তোলেন তিনি। সিহলোবোর মতে, সাশ্রয়ী অর্থায়ন, জমি, দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদন বাড়ানোর মূল শর্ত। ল্যান্ড ব্যাংকসহ মিশ্র অর্থায়ন বাড়ানোর পক্ষে থাকলেও তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু টাকা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই কৃষক তৈরি হয় না। কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ মাস্টারপ্ল্যানে কাঠামো আগেই আছে, ঘাটতি বাস্তবায়নে।
দুজনই পৌরসভার ভূমিকার কথা বলেন। একার্ডের মতে, স্থানীয় সেবা গ্রামীণ অর্থনীতির টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য; সিহলোবো জরুরি সংস্কারের দরকার হিসেবে পৌর তাজা পণ্যের বাজারের কথা তোলেন। সংগঠিত কৃষি প্রসঙ্গে একার্ড বলেন, এসব সংগঠনের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই, সড়ক বা বন্দরের দায় তাদের নয়, তবে সদস্যদের কাছে তারা জবাবদিহি করতে বাধ্য। সিহলোবো বলেন, এগ্রিএসএর মতো ছাতা সংগঠন সরকারের সামনে শিল্পের অবস্থান এক করতে সাহায্য করতে পারে।
সম্মেলনের প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্মার্স উইকলির হানলি দু প্লেসি (Hanlie du Plessis)।
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)