নেটওয়ার্ক না থাকলে বা ম্যাপ ভুল মোড় দেখালে এখনো পাশের মানুষকেই পথ জিজ্ঞেস করতে হয়। উত্তরে অনেক সময় মেলে বিরক্ত মুখ বা ভুল ইশারা। প্রথম আলোয় মুহাম্মদ তাজাম্মুল হকের লেখায় হাদিসের আলোকে দেখানো হয়েছে, এই ছোট কাজটির মর্যাদা ইসলামে কত বড়।
রাস্তায় বসা নিয়ে সাহাবিদের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর একটি কথোপকথন আছে সহিহ বুখারিতে (হাদিস: ২৪৬৫)। তিনি সতর্ক করলে সাহাবিরা জানান, তাঁদের তো বসতেই হয়। তখন তিনি রাস্তার হক আদায় করতে বলেন: দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্ট না দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ। সুনান আবু দাউদের (হাদিস: ৪৮১৬) একই ধরনের বর্ণনায় যুক্ত হয়েছে পথহারাকে পথ দেখানোর কথা।
বিভিন্ন বর্ণনা একত্র করে ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ফাতহুল বারিতে রাস্তার ১৪টি আদব উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে আছে বিপদগ্রস্তকে সাহায্য, ভারী বোঝা বহনে সহায়তা ও পথহারাকে পথ দেখানো।
সদকা মানে শুধু টাকা নয়। সুনানে তিরমিজির (হাদিস: ১৯৫৬) বর্ণনায় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসা, পথহারাকে পথ দেখানো, দুর্বল দৃষ্টির মানুষকে সাহায্য করা এবং রাস্তা থেকে পাথর ও কাঁটা সরানোকেও সদকা বলা হয়েছে।
উল্টো দিকে সতর্কবাণীও আছে। আল-আদাবুল মুফরাদের (হাদিস: ৮৯২) বর্ণনায় অন্ধকে পথ থেকে বিচ্যুত করার নিন্দা করা হয়েছে। লেখকের ভাষ্যে, এর প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র দৃষ্টিহীন ব্যক্তি হলেও আলেমরা এর মর্ম থেকে বোঝেন, কেউ সাহায্য চাইলে জেনেশুনে বিভ্রান্ত করা মারাত্মক অপরাধ। জানা না থাকলে ‘আমি জানি না’ বলাই সততা।
লেখকের মতে, অনেক মানুষ ইসলামকে চেনে মুসলিমদের আচরণ দিয়ে। পথ বলে দিতে খরচ লাগে না, লাগে কয়েক মুহূর্ত ও একটু সদিচ্ছা। এই ছোট অভ্যাসই অচেনা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)