ভুল বুঝতে পেরে কেউ ‘স্যরি’ বললে তাকে ক্ষমা করা উচিত কি না, এই প্রশ্ন অনেকের মনে আসে। বাংলাভিশনের নাজমুল হাসানের লেখায় কোরআন-হাদিসের আলোকে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে। ইসলামে ক্ষমা ও উদারতাকে মহৎ গুণ হিসেবে দেখা হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকলেও ক্ষমাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে রাগ সংবরণ ও মানুষকে ক্ষমা করাকে মুমিনের গুণ বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। সহিহ মুসলিমের ২৫৮৮ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। অর্থাৎ ক্ষমা দুর্বলতা নয়।
তবে কেউ ক্ষমা চাইলেই তার সব আচরণ মেনে নিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। লেখায় বলা হয়েছে, ক্ষমা করা আর অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া এক নয়। কেউ আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হলে ক্ষমা করা উত্তম, কিন্তু একই ব্যক্তি বারবার কষ্ট দিলে নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
সুরা আশ-শুরার ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ, তবে যে ক্ষমা করে দেয় ও সংশোধন করে নেয়, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে রয়েছে।
কারও সম্পদ নষ্ট করা বা আর্থিক ক্ষতি করার মতো ঘটনায় শুধু মুখে ‘স্যরি’ বলা যথেষ্ট নয়। যার অধিকার নষ্ট হয়েছে, তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কারণ ইসলামে মানুষের হককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বাংলাভিশন



মন্তব্য
(০)