বৃষ্টি, বাতাস আর ঋতুবদল কখনো স্বস্তি আনে, কখনো ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ভোগের কারণ হয়। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে কীভাবে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইতে ও বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়, মহানবী (সা.)-এর শেখানো সেই পাঁচটি দোয়া হাদিসের সূত্রসহ তুলে ধরেছে বাংলানিউজ২৪-এর ইসলাম পাতা।
লেখায় সুরা রুমের ৪৮ আয়াত উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে আল্লাহই বাতাস পাঠান, তা মেঘ তৈরি করে এবং মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে; সুরা শুরার ২৮ আয়াতে আছে, মানুষ নিরাশ হওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে (সুনানে আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ) নবীজি (সা.) বাতাসকে গালমন্দ করতে নিষেধ করেছেন, কারণ বাতাসে কল্যাণ ও অকল্যাণ দুই-ই থাকতে পারে।
আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আকাশে মেঘ জমলে নবীজি (সা.)-এর চেহারায় উদ্বেগের ছাপ পড়ত, বৃষ্টি শুরু হলে তা কাটত। কারণ হিসেবে তিনি আদ জাতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যারা মেঘ দেখে বৃষ্টির আশা করেছিল (সুরা আহকাফ, আয়াত ২৪), কিন্তু সেই মেঘ ছিল ধ্বংসাত্মক ঝড়ের পূর্বাভাস (সহিহ মুসলিম)।
প্রথম দোয়া প্রবল বাতাসের সময়: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি; অর্থাৎ এই বাতাসের কল্যাণ চাই এবং এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই (সহিহ মুসলিম)। দ্বিতীয়টি আকাশে মেঘ জমলে: আল্লাহুম্মা ইন্না নাঊজু বিকা মিন শাররি মা উরসিলা বিহি; মেঘ যা নিয়ে এসেছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
তৃতীয়টি অনাবৃষ্টি ও খরায়: জুমার খুতবার সময় এক ব্যক্তির অনুরোধে নবীজি (সা.) দুই হাত তুলে তিনবার বলেছিলেন, আল্লাহুম্মা আগিসনা, অর্থাৎ হে আল্লাহ, বৃষ্টি দিয়ে আমাদের সাহায্য করুন (সহিহ বুখারি)। চতুর্থটি বৃষ্টি শুরু হলে: আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআন, হে আল্লাহ, এই বৃষ্টিকে উপকারী করুন (সহিহ বুখারি)। পঞ্চমটি অতিবৃষ্টিতে: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা, হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয় (সহিহ বুখারি)।
লেখায় বলা হয়েছে, বৃষ্টি কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রাণ; তাই সুন্নাহ অনুযায়ী আবহাওয়া বদলের সময় কল্যাণের প্রার্থনা, বিপদ থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।
ছবি: Nikseng / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)