বেশি আয় করলেই জীবনে শান্তি আসে না; ইসলামে বরকত বলতে বোঝায় অল্প সম্পদেও যথেষ্ট কল্যাণ ও প্রশান্তি, যা আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন পাঁচটি আমলের কথা তুলে ধরেছে, যেগুলো মহানবী (সা.) উম্মতকে শিখিয়েছেন আয়-উপার্জনে বরকতের জন্য।
প্রথম আমল আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। ব্যস্ততার অজুহাতে আত্মীয়দের খোঁজ না নেওয়া বা সম্পর্ক ছিন্ন করাকে সম্পদ ও আয়ুর বরকত নষ্ট হওয়ার বড় কারণ বলা হয়েছে। সহিহ বুখারির (হাদিস ২০৬৭) বর্ণনায় মহানবী (সা.) বলেছেন, যে চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক ও আয়ু বাড়ুক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।
দ্বিতীয় আমল ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে সততা। কাজে ফাঁকি না দেওয়া এবং পণ্যের দোষ-গুণ ক্রেতাকে স্পষ্ট করে বলা বরকতের চাবিকাঠি। সহিহ বুখারির (হাদিস ২০৭৯) হাদিসে এসেছে, ক্রেতা-বিক্রেতা সত্য বললে ও দোষ-গুণ স্পষ্ট করলে তাদের কেনাবেচায় বরকত দেওয়া হয়, আর মিথ্যা বললে ও দোষ গোপন করলে সেই বরকত মুছে যায়।
তৃতীয় আমল ইস্তিগফার, অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। সুরা নুহের ১০ থেকে ১২ আয়াতে বলা হয়েছে, ক্ষমা চাইলে আল্লাহ মুষলধারে বৃষ্টি দেবেন এবং ধনসম্পদ ও সন্তান দিয়ে সাহায্য করবেন। সুনানে আবু দাউদের (হাদিস ১৫১৮) বর্ণনায়ও আছে, যে নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাকে ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেন।
চতুর্থ আমল দান। সাধারণ হিসাবে দান করলে সম্পদ কমে, কিন্তু সহিহ মুসলিমের (হাদিস ২৫৮৮) হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, সদকা করলে কারও সম্পদ কমে না। পঞ্চম আমল সকালের কাজে মনোযোগ। সুনানে আবু দাউদে (হাদিস ২৬০৬) মহানবী (সা.)-এর দোয়া বর্ণিত আছে, হে আল্লাহ, আমার উম্মতের সকালের কাজে বরকত দিন। এর বর্ণনাকারী সাহাবি সাখর আল-গামিদি (রা.) ব্যবসায়ী ছিলেন; তিনি সকাল সকাল পণ্য পাঠাতেন এবং প্রচুর সম্পদের মালিক হয়েছিলেন।
লেখায় বলা হয়েছে, হালাল উপায়ে রিজিক খোঁজাও একটি ইবাদত। এসব আমলের সঙ্গে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখলে অল্প আয়েও জীবনে প্রশান্তি আসে।
ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)