পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনো প্রায় ১০০ দিন বাকি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে নয়, এখন থেকেই ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের রুটিনে অল্প অল্প পরিবর্তন আনলে রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। হঠাৎ সব অভ্যাস বদলানোর চেয়ে ধীরে বদলালে শরীর ও মন নতুন রুটিনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সময় পায়।
দুবাইয়ের এনজিএসের ইমাম ও ধর্মীয় আলোচক শায়খ আয়াজ হাউজে বলেন, রমজানের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ ইবাদতের অভ্যাস গড়ার চেষ্টা না করে এখনই শুরু করা ভালো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়, প্রতিদিন কোরআনের কয়েকটি আয়াত পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখার পরামর্শ তাঁর। মাসিক, অসুস্থতা বা ভ্রমণের কারণে যাঁদের আগের রমজানের রোজা বাকি আছে, সম্ভব হলে পরের রমজানের আগেই সেগুলো কাজা করে নিতে বলেছেন তিনি।
দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল মডার্ন হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বপ্না মেরি জন এখন থেকেই খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমানো এবং গভীর রাতে ভারী খাবারের অভ্যাস ছাড়ার পরামর্শ দেন। রমজান ঘনিয়ে এলে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার সময় ধীরে ধীরে সরিয়ে সেহরির উপযোগী রুটিন গড়া যায়। দিনভর নিয়মিত পানি পান, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং চা-কফির ক্যাফেইন ধীরে ধীরে কমানোর কথাও বলেন তিনি; রমজানে হঠাৎ চা-কফি বন্ধ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও বিরক্তি দেখা দিতে পারে।
তাঁর পরামর্শ, প্রতিদিনের খাবারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি রাখা। সেহরিতে ওটস, পূর্ণশস্যের রুটি, ডিম, দই, শিমজাতীয় খাবার ও শাকসবজি রাখা যায়; ইফতারে শাকসবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও পরিমিত শস্যজাতীয় খাবারে ভারসাম্য থাকে। অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, ভাজাপোড়া ও ঘন ঘন নাশতার অভ্যাসও ধীরে কমাতে হবে। লক্ষ্য খাবার কমানো নয়, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়া।
দুবাইয়ের এনএমসি স্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ জয়মোহন উন্নিথান বলেন, রমজানের প্রস্তুতিতে শরীরচর্চা বন্ধের দরকার নেই। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে হঠাৎ মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়। রমজানে ইফতারের আগে হালকা ব্যায়াম, আর মাঝারি বা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের জন্য ইফতারের এক থেকে দুই ঘণ্টা পরের সময় তুলনামূলক উপযোগী। আঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখ থাকলে রুটিন বদলানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, আগে থেকে কোনো রোগে আক্রান্ত, নিয়মিত ওষুধ খান বা শারীরিক আঘাত আছে, এমন ব্যক্তিদের রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। রোজা অবস্থায় মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা তীব্র মাথাব্যথাকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেছেন তাঁরা।
প্রতিবেদনটি বার্তা২৪-এর ইসলাম ডেস্কের।
ছবি: AMISOM Public Information / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)