বিয়ের প্রস্তাব আসা পাত্রের আয় যদি সরাসরি সুদ বা অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, অভিভাবকেরা কী করবেন, এ প্রশ্নের জবাব কোরআন, হাদিস ও আলেমদের মতের আলোকে দিয়েছে ইত্তেফাক ডিজিটালের ইসলামবিষয়ক এক লেখা। এর মূল কথা, সুদে জড়িত থাকার কারণে বিয়ে আপনাআপনি অবৈধ হয় না, তবে জেনেবুঝে সুদে অবিচল পাত্রকে জামাতা না করাই সতর্ক ও কল্যাণকর সিদ্ধান্ত।
লেখায় সুদকে ইসলামে সবচেয়ে মারাত্মক কবিরা গুনাহগুলোর একটি বলা হয়েছে। সুরা আল-বাকারার ২৭৫ আয়াতে আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন এবং ২৭৮ আয়াতে মুমিনদের সুদের অবশিষ্টাংশ ছেড়ে দিতে বলেছেন। সহিহ মুসলিমের (১৫৯৮) হাদিসে সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, এর লেখক ও দুই সাক্ষীকে সমান অপরাধী বলা হয়েছে।
ইসলামি আইনশাস্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে লেখায় বলা হয়েছে, পাত্রের সুদি কারবার আর তার সঙ্গে বিয়ের বৈধতা আলাদা বিষয়। বিয়ে বাতিল না হলেও কেউ জেনেবুঝে সুদে অবিচল থাকলে তা তার দ্বীনদারির বড় ঘাটতি। শাইখ ইবনে বায (রহ.)-এর একটি ফতোয়ার উল্লেখ করা হয়েছে: সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করা এবং বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত তা ছাড়তে নারাজ পাত্রের কাছে, সে ওই চাকরিতে থাকা অবস্থায়, মেয়ে বিয়ে না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
পাত্র বাছাইয়ে সম্পদ বা পদের চেয়ে দ্বীনদারি ও চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে জামে তিরমিজির (১০৮৪) হাদিসের আলোকে। হারাম উপার্জন জীবনের বরকত কেড়ে নেয় বলে উল্লেখ করা হলেও লেখায় সতর্ক করা হয়েছে, স্বামীর আয়ে হারামের মিশ্রণ থাকলেই সংসারের সব অর্থ স্ত্রীর জন্য ঢালাওভাবে হারাম, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়; বিধান নির্ভর করে আয়ের ধরন, অর্থের উৎস ও স্ত্রীর অবস্থার ওপর।
কেউ অতীতে সুদে জড়িত থাকলেও আন্তরিকভাবে তওবা করে হালাল উপার্জনে ফিরলে তাকে আজীবন অনুপযুক্ত ধরা শরিয়তের উদ্দেশ্য নয়; তার সার্বিক দ্বীনদারি বিবেচনা করে প্রস্তাব গ্রহণ করা যেতে পারে বলে লেখায় বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় কন্যার মতামত উপেক্ষার সুযোগ নেই; বিধবা বা আগে বিবাহিত নারীর পরামর্শ এবং কুমারী মেয়ের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না, এ বিষয়ে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশের উল্লেখ আছে।
লেখার শেষে বলা হয়েছে, মেয়ের বিয়ে কেবল সচ্ছল কারও হাতে তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এমন জীবনসঙ্গী খোঁজার বিষয়, যার সঙ্গে মেয়ে নিরাপদে তার ঈমান ও আমল রক্ষা করতে পারে। বিয়ের মতো সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)