হিসাব রাখা থেকে পশু দেখাশোনা, খামারের নানা কাজ নারীরা সামলালেও তাঁদের দেখা হয় কৃষকের স্ত্রী, মেয়ে বা সহকারী হিসেবে। আর দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় বাধা জমি। ১ থেকে ৫ নভেম্বর কেপটাউনে হওয়া ৩১তম কমনওয়েলথ কৃষি সম্মেলনের এক অধিবেশনে এসব কথা উঠে আসে।
বোশেন্ডালের (Boschendal) সহকারী পশুসম্পদ ব্যবস্থাপক ও ২০২৫ সালের ওয়েস্টার্ন কেপ প্রেস্টিজ এগ্রি অ্যাওয়ার্ডের সেরা বিজয়ী শ্যানন রবার্টসন (Shannon Robertson) বলেন, গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও জীবিকানির্ভর চাষে জমি থাকে স্বামী বা দাদার নামে, নারীকে দেখা হয় ঘর সামলানোর মানুষ হিসেবে। অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও বাজারেও তাঁদের প্রবেশ দরকার। তিনি নিজেও ভাবতেন, স্টেলেনবশের কাছের স্ট্রবেরি ও সবজির খামারটি দাদার। পরে জানেন, দাদা কাজ করতেন কারখানায়। বোনা, তোলা, সেচ, সব সামলাতেন দাদি।
আন্তর্জাতিক দুগ্ধ ফেডারেশনের খামার ব্যবস্থাপনা কমিটির উপপ্রধান লিন্ডা ম্যাকডোনাল্ড (Lynda McDonald) বলেন, দেশভেদে অগ্রাধিকার আলাদা। কিছু উদীয়মান অর্থনীতিতে নারীর এখনো দরকার ব্যাংক হিসাব, জমির মালিকানা বা ইজারার অধিকার এবং পুরুষের মাধ্যম ছাড়াই সেবা পাওয়ার সুযোগ। তাঁর কথায়, এই মৌলিক অধিকার না থাকলে নেতৃত্বের আলোচনা করা যায় না।
যুক্তরাজ্যের কৃষি ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান এমিলি নরটন (Emily Norton) জানান, এক সভায় নারীরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছিলেন কৃষকের সঙ্গী হিসেবে, কেউ বলছিলেন ‘শুধু’ হিসাব রাখেন। তিনি তাঁদের কৃষক পরিচয় দাবি করতে বলেন। তাঁর মতে, কাজের নকশা খারাপ হলে সেটাকেই নারীর শক্তির অভাব বলে ধরা হয়। বাছুরের বালতি কলে টেনে নেওয়ার বদলে পাইপ দিয়েই পানি আনা যায়। যন্ত্র, পোশাক ও সুরক্ষা সরঞ্জামও নারীর মাপে হওয়া দরকার। বয়স্ক পুরুষদের পুরোনো আঘাত বলে দেয়, এই পদ্ধতির দাম পুরুষও দেন।
ম্যাকডোনাল্ড নিউজিল্যান্ডের প্রায় এক দশক আগের এক গবেষণার কথা বলেন। সেখানে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের চেয়ে বেশি ছিল, এরপর সন্তান ও পরিবারের দায়িত্বে তা কমতে শুরু করে। প্রথম সন্তানের পর নারীদের ধরে রাখাই তাই বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্যের অভাবও স্পষ্ট। রবার্টসন ২০১২ সালের এক গবেষণা উল্লেখ করেন, যাতে দেখা গেছে অংশ নেওয়া নারীদের ৯০ শতাংশের বেশি সাধারণ শ্রমিক, তদারকি, ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক পদে ৭ শতাংশের কম। নরটন প্রশ্ন তোলেন যুক্তরাজ্যের জরিপ নিয়ে, যেখানে শুধু প্রধান কৃষককে গোনা হয়। ম্যাকডোনাল্ড সংগঠনগুলোকে নারীর অংশগ্রহণের হিসাব রাখতে বলেন। তিনি জানান, পূর্ব আফ্রিকার পাঁচ বছরের এক প্রকল্পে পারিবারিক সিদ্ধান্তে নারীকে যুক্ত করার চেষ্টায় সমবায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ ১৯ থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়েছে।
প্রতিবেদক: গ্লেনিস ক্রিল, Farmer's Weekly।
ছবি: USAID Africa Bureau / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন), তানজানিয়ার মরোগোরোর নারী চাষিদের সমিতি, প্রতিবেদনের কেউ নন
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)