শীত আসার আগেই যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নের মাঠ রঙিন হয়ে উঠছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধায়। চাষি ও কৃষি বিভাগ আশা করছে, এবার এই অঞ্চল থেকে শতকোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
ঝিকরগাছা ও শার্শার ৭৫টি গ্রামে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে, যুক্ত আছেন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম হোসেন পলাশ জানান, যশোরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টরে ১৫ ধরনের ফুলের আবাদ হয়। গত কয়েক বছরের মতো এবারও টিউলিপ ও লিলিয়াম চাষ করা হয়েছে।
দেশে বাণিজ্যিক ফুল চাষের শুরু এই গদখালীতেই। ১৯৮৩ সালে প্রয়াত কৃষক শের আলী সরদার ৩০ শতক জমিতে রজনীগন্ধা লাগিয়ে এর সূচনা করেন। এখন গদখালীর মোকামে সারা দেশের পাইকাররা আসেন, ফলে চাষিদের দূরে যেতে হয় না।
চাষিরা জানান, আড়তে প্রতি পিস গোলাপ ৫ থেকে ৮ টাকা, গ্লাডিওলাস ১০ থেকে ১৫ টাকা, জারবেরা ৮ থেকে ১০ টাকা ও রজনীগন্ধা ৬ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হয়। ১০০ পিস চন্দ্রমল্লিকা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, এক হাজার গাঁদা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। চাহিদা ও উৎপাদন অনুযায়ী দাম ওঠানামা করে। বিজয় দিবস, ইংরেজি নববর্ষ, ২১ ফেব্রুয়ারি ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরেই চাষিদের বাড়তি বিক্রির হিসাব।
তবে খরচ বেড়েছে। সৈয়দপাড়ার রমজান আলী বলেন, শ্রমিকের মজুরি, চারার দাম এবং সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এবার খরচ বেশি। চাষি আব্দুর রহমানের হিসাবে, একর প্রতি জারবেরায় ৩৮ লাখ টাকা, গোলাপে ৫ লাখ, গ্লাডিওলাসে সাড়ে ৪ লাখ, রজনীগন্ধায় প্রায় ৩ লাখ এবং গাঁদায় আড়াই লাখ টাকার মতো খরচ হয়। তাঁর অভিযোগ, ফুলহাটের ইজারাদারদের সিন্ডিকেটের কারণে কখনো কখনো বাজার অস্থির হয়; এর সমাধানে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানকার আবহাওয়া ফুলের উপযোগী হলেও ফুল অন্য দেশের তুলনায় কম সময় তরতাজা থাকে। মসলা চাষের মতো বিশেষ সুবিধায় কৃষিঋণ এবং চাষের প্রযুক্তিতে ভর্তুকি চান তাঁরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের আগে দেশের ফুলের চাহিদার প্রায় পুরোটা আমদানিনির্ভর ছিল; এখন প্রায় ৭০ শতাংশ দেশি ফুলে মিটছে।
ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)