কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৪০ উপজেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে ‘সীড ভিলেজ’ বা বীজ প্রযুক্তি গ্রাম। লক্ষ্য কৃষকের নিজের জমিতে মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো, স্থানীয় বীজব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দুর্যোগকবলিত এলাকায় দ্রুত বীজের জোগান নিশ্চিত করা, জানিয়েছে কৃষি সময়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট (বি-স্ট্রং) এগ্রিকালচারাল সিস্টেম রিস্টোরেশন কমপোনেন্ট’-এর মাধ্যমে কাজটি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি পুনরুদ্ধার এর অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রকল্পের লক্ষ্যের মধ্যে আছে আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণে ফসলের উৎপাদন ২ শতাংশ বাড়ানো এবং অন্তত ৩০ শতাংশ নারীসহ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন।
যেসব এলাকায় বছরে দুই মৌসুমে ধান এবং অন্য মৌসুমে গম, ডাল, তেল ও মসলা ফসল হয়, সেগুলোকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে অন্তত তিনটি করে বীজ প্রযুক্তি গ্রাম হবে। ভিত্তিবীজ এবং বারি, ব্রি, বিনা, বিএডিসি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত উন্নত জাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রদর্শনী হিসেবে ধানে দুই মৌসুমে ১০ বিঘা করে মোট ২০ বিঘায় আবাদ হবে, অংশ নেবেন পাঁচ থেকে ১০ জন কৃষক। গম, ডাল ও তেল ফসলের প্রতিটির জন্য তিন বিঘা করে জমি, প্রতিটিতে এক থেকে তিনজন কৃষক। প্রকল্প কার্যালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২,৪০০ বিঘা থেকে ১,৪৪০ মেট্রিক টন ধানবীজ, ৩৬০ বিঘা থেকে ১৩৫ টন গমবীজ, ৩৬০ বিঘা থেকে ৭২ টন ডালবীজ এবং ৩৬০ বিঘা থেকে ৫৭.৬০ টন তেলবীজ উৎপাদনের লক্ষ্য। ১২০ বিঘা থেকে ৪.৮ টন মসলা বীজ ও আরও ১২০ বিঘা থেকে ১২০ টন কন্দ উৎপাদনের প্রাক্কলনও রয়েছে।
বীজের মান ধরে রাখতে প্রতিটি গ্রামে দেওয়া হচ্ছে ময়েশ্চার মিটার, বীজ সংরক্ষণ পাত্র, ত্রিপল, বস্তা সেলাইয়ের যন্ত্র, সিলার মেশিন, ওজন যন্ত্র এবং বস্তা বা প্যাকেট। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামে কৃষকেরা অন্তত ২,৫০০ কেজি ধানবীজ, ৬০০ কেজি গমবীজ, ২০০ কেজি ডালবীজ, ১০০ কেজি তেলবীজ এবং দুই কেজি পেঁয়াজবীজ অথবা ২০০ কেজি পেঁয়াজের কন্দ সংরক্ষণ করবেন।
ডিএই, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (এসসিএ) ও প্রকল্পের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে মাঠ পরিদর্শন করছেন। প্রতিটি গ্রামে অন্তত তিনবার রোগিং করে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের গাছ সরানো, সঠিক দূরত্বে চারা রোপণ, স্বাতন্ত্র্যকরণ দূরত্ব রাখা, আগাছা দমন ও সুষম সার প্রয়োগের নিয়ম মানা হচ্ছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, এতে মানসম্মত বীজের সংকট কমবে এবং বীজের জন্য বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকেরা নিজেরাই বীজ উৎপাদক ও সরবরাহকারী হয়ে উঠবেন।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের কুমিল্লা সংবাদদাতা।
ছবি: হাওরে ধান কাটা, Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)