স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অংশ চার ভাগের তিন ভাগের বেশি কমেছে। ১৯৭২ সালে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ৪৯.৮ শতাংশ; ২০২৫ সালের প্রক্ষেপণে তা ১১.৪২ শতাংশ। এ তথ্য উঠে এসেছে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, জানিয়েছে আমার দেশ।
‘বাংলাদেশের ব্যাল্যান্স শিট (১৯৭২-২০২৫): পাঁচ দশকে অর্থনীতির পথ পরিক্রমা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ।
প্রতিবেদনের হিসাবে কৃষির অংশ ১৯৮০ সালে ছিল ৪৪.২ শতাংশ, ২০০০ সালে ২৪.১ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ১২.৮ শতাংশ। একই সময়ে শিল্প খাতের অবদান ১৯৭২ সালের ৯ শতাংশ থেকে ২০০০ সালে ২৫.২ শতাংশে এবং ২০২৫ সালে ৩৪.০৩ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদন শিল্পের অবদান ১৯৭২ সালে ছিল ৩.১ শতাংশ, ২০২১ সালে ২১.৮৯ শতাংশ।
তবে প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ, জিডিপিতে অংশ কমলেও কৃষির গুরুত্ব কমেনি। দেশের মোট ভূমির বড় অংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশকে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।
ড. আব্দুল মজিদ কৃষকের জন্য সহজ শর্তে মূলধন, উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাও তুলে ধরা হয়েছে। কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে, আর ২০২৫ সালের জন্য তা দেখানো হয়েছে ৬.৬ শতাংশ; অনেক দেশে এই অনুপাত অন্তত ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ। গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৯৭২-১৯৮০ সময়ে ছিল ২.৯৬ শতাংশ, ২০১১-২০২০ দশকে ৬.৪৩ শতাংশ; করোনার পর ২০২১ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করে।
ছবি: সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটা, Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)