আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএফপিআরআই (IFPRI) সংঘাতকবলিত এলাকার বীজব্যবস্থা নিয়ে নতুন গবেষণা শুরু করছে। ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চল ও নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে জলবায়ুর ধাক্কা, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতি কৃষকের বীজ পাওয়ার সুযোগে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখা হবে। মাঠের কাজ শুরু হচ্ছে চলতি নভেম্বরেই।
গবেষণায় অর্থ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর, সিজিআইএআরের ব্রিডিং ফর টুমরো কর্মসূচির আওতায়। মূল প্রশ্ন একটি: কোন ধরনের জরুরি বীজ সহায়তা কৃষকের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটায় এবং একই সঙ্গে স্থানীয় বীজব্যবস্থাকে শক্ত করে।
লেখক গুশ বেরহানে (Guush Berhane), ক্লডিয়া রিঙ্গলার (Claudia Ringler) ও রেওয়া মিশ্র (Rewa Misra) লিখেছেন, ভঙ্গুর ও সংঘাতপীড়িত দেশগুলো একসঙ্গে অনেক সংকটে আছে: জলবায়ুর অস্থিরতা, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্বল প্রতিষ্ঠান। এখনকার রেকর্ড শক্তিশালী "সুপার" এল নিনো এর সঙ্গে খরা ও অতিবৃষ্টি যোগ করছে। আফ্রিকার এসব এলাকার কৃষক পরিবারকে ঠিক করতে হচ্ছে আদৌ চাষ করবেন কি না, কখন করবেন, কী বুনবেন, অথচ বীজ ও অন্যান্য উপকরণ পাওয়া কঠিন বা দাম নাগালের বাইরে।
গবেষকদের মতে, ধাক্কা আসার আগে উপযুক্ত বীজ পৌঁছে দিলে বা নষ্ট হওয়া বীজের বদলে নতুন বীজ দিলে চাষ চালু থাকে। তবে তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বীজের ঘাটতির চেয়ে বীজ কেনার সামর্থ্যই প্রায়ই বড় সমস্যা। প্রমাণ বলছে, দুর্যোগের পর কৃষক বীজ খুঁজে না পাওয়ার চেয়ে দাম দিতে না পারার সমস্যায় বেশি পড়েন। তাই সহায়তা সাজাতে হবে স্থানীয় বাস্তবতা বুঝে।
এই দৃষ্টিতে দুই অঞ্চলেই দেখা হবে কোন সহায়তা এ মৌসুমে মাঠ চালু রাখে, অথচ পরের মৌসুমে কৃষক যে স্থানীয় বীজবাজার ও নিজের রাখা বীজের ওপর ভরসা করেন, তাকে দুর্বল করে না।
ছবি: Rod Waddington / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: CGIAR





মন্তব্য
(০)