স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডস অঞ্চলের ইস্টার রসের কাছে ৫৫০টি মা-শূকরের একটি ঘরোয়া খামার চালান ডেনিস ব্রিজফোর্ড (Dennis Bridgeford)। পিগ ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত কলামে তিনি লিখেছেন, একসময়ের গর্বের স্কটিশ শূকর খাত এখন চূড়ান্ত পতনের দিকে যাচ্ছে। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর ভাষ্য, অনেক স্বাধীন খামারির শূকর সরবরাহের চুক্তি অক্টোবরে শেষ হচ্ছে, আর তিনি শুনেছেন কারও কারও চুক্তির বাইরের শূকরের জন্য কোনো কসাইখানা ঠিক নেই। একই সময়ে প্রক্রিয়াকারকেরা যেখানে পারছে খুব সস্তায় আমদানি করা শূকর কিনছে, যাকে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট নিয়ে সরকারের মনোযোগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন।
তাঁর হিসাবে স্কটল্যান্ডে স্বাধীন শূকর খামারির সংখ্যা এখন বিশের ঘরে নেমেছে, খাতটি টিকিয়ে রাখার মতো ন্যূনতম আকারও প্রায় হারিয়ে গেছে। সামনের মাসগুলোতে কঠিন আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং বড় সমন্বিত কোম্পানিগুলো হিসাব কষে মা-শূকর জবাই বাড়াবে বলে তাঁর ধারণা। বাতিল মা-শূকরের দাম ভালো হলে সিদ্ধান্ত সহজ হতো: তাঁর শেষ চালানে সব কাটছাঁটের পর মাথাপিছু মিলেছে মাত্র ৭ পাউন্ড ৮০ পেন্স, অথচ বাতিল ভেড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০ পাউন্ডের বেশি দামে।
খামারের মৌসুমও কঠিন গেছে। জুনের এক দিনে তিন ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় সাধারণত সবার আগে ফসল কাটা খামারটি এবার শেষে কেটেছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত, যদিও ফলন ভালো হয়েছে। খড় এখনো মাঠে, আর ভেজা ঘন বেল জমে শক্ত হয়ে ছত্রাক ধরে। এরপর একের পর এক যন্ত্র বিকল হয়েছে: প্রধান ট্রাক্টরের গিয়ারবক্স ও তেলের পাম্প, কম্বাইন হারভেস্টারের বিয়ারিং, ভেজা খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা আর ভ্রাম্যমাণ খাদ্যকল। তাঁর মতে স্বাভাবিক সময়ে এগুলো এত দিনে বদলে ফেলা হতো।
তবু ছোট আকারের মধ্যে তিনি আশা দেখেন। স্কটল্যান্ডের অল্প কয়েকজন শূকর খামারি নিয়মিত একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন, একটি গোপন ফোন গ্রুপও আছে; তাঁর ধারণা, পালের স্বাস্থ্য এখন সবচেয়ে ভালো থাকার এটি একটি কারণ। ডেনমার্কের অস্থিরতার কথা টেনে তিনি লেখেন, যাঁরা টিকে থাকতে পারবেন, সেই স্বাধীন খামারিদের প্রয়োজন হয়তো আবার দেখা দেবে।
লেখার শেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রত্যেক মানুষেরই একজন কৃষক দরকার, এবং আশা করেন অনেক দেরি হওয়ার আগেই স্কটল্যান্ডের শূকর খাত তার মূল্য পাবে।
ছবি: Trougnouf (Benoit Brummer) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: Pig World





মন্তব্য
(০)