মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকে বাধা হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক প্রদীপ রায় জিতু। জাগো নিউজে প্রকাশিত এক মতামত লেখায় তিনি বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রিয় না হলেও এর সুফল ভোগ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ। লেখার মতামত লেখকের নিজের।
লেখায় তিনি ইলিশের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন সংখ্যা দিয়ে: দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১১-১২ শতাংশ আসে এই একটি প্রজাতি থেকে; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ২৯ লাখ মেট্রিক টন, যার মূল্য প্রায় ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, প্রায় ৭ লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে যুক্ত এবং প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইলিশনির্ভর।
জাটকা সংরক্ষণ, অভয়াশ্রম, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ আর জেলে সহায়তা মিলিয়ে বাংলাদেশ ইলিশ ব্যবস্থাপনার সফল মডেল হয়েছে বলে মনে করেন লেখক। তবে তাঁর সতর্কবার্তা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন আগের বছরের চেয়ে কমেছে, আর বিশেষজ্ঞরা এর জন্য নদীদূষণ, নাব্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত আহরণ ও আবাসস্থলের পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।
লেখকের মতে, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, সামাজিক অংশগ্রহণেরও পরীক্ষা। ভোক্তা নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ না কিনলে, ব্যবসায়ী অবৈধ মাছ বাজারে না তুললে আর এলাকার মানুষ আইন ভাঙার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে অভিযান আরও কার্যকর হবে, কারণ চাহিদা থাকলে অবৈধ জোগানের পথও খোলা থাকে।
তবে সংযমের আহ্বান তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন রাষ্ট্রও দায়িত্ব পালন করে, লিখেছেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলে পরিবারের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়; অথচ মাঠপর্যায়ে অনেক প্রকৃত জেলে তালিকায় ওঠেন না, কোথাও সহায়তা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি আর প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
লেখক আরও বলেছেন, ইলিশ বাঁচাতে শুধু মাছ ধরা বন্ধ করলেই হবে না, তার বাস্তুতন্ত্রও রক্ষা করতে হবে। নদী দখল, দূষণ, শিল্পবর্জ্য, পলি জমে ভরাট আর নাব্য হারানো ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত করছে। জিআই পণ্য ইলিশের সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়ে তিনি লিখেছেন, আজকের সংযমই আগামী দিনের সমৃদ্ধি।
ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)