দেশি ছোট মাছ সরপুঁটির (Puntius sarana) পোনা উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে ভারতের মুম্বাইয়ের আইসিএআর-কেন্দ্রীয় মৎস্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (সিফে)। এতে আছে আবদ্ধ অবস্থায় মা-বাবা মাছ তৈরি, কৃত্রিম প্রজনন এবং ঘরের ভেতরে লার্ভা লালন।
আবদ্ধ অবস্থায় সরপুঁটি প্রায় এক বছর বয়সে, ১৪-১৮ গ্রাম ওজনে প্রজননক্ষম হয়েছে। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী মাছ প্রজননক্ষম ছিল, ডিম ছাড়ার চূড়া জুলাইয়ে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে গড়ে ১৬ গ্রামের স্ত্রী ও ১৫ গ্রামের পুরুষ মাছ বেছে দুই পুরুষ এক স্ত্রী অনুপাতে রাখা হয় এবং প্রজনন হরমোনের মানক মাত্রা দেওয়া হয় (স্ত্রী মাছে ১০০ মাইক্রোলিটার, পুরুষে ৫০)। ১২-১৪ ঘণ্টা পর মাছগুলো ডিম ছাড়ে।
প্রতিটি স্ত্রী মাছ আনুমানিক ২,৫০০ থেকে ৩,২০০টি ডিম দিয়েছে, ডিমগুলো স্বচ্ছ ও আঠালো। ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৬ ঘণ্টায় ২.৫-২.৭ মিলিমিটারের লার্ভা ফোটে। ২৫০ লিটারের ট্যাংকে ৩০ দিন ড্যাফনিয়া খাওয়ানো হয়, ২৫তম দিন থেকে ৫০০ মাইক্রনের কণাখাদ্যে অভ্যস্ত করা হয়, পরে ৫০০ লিটারের নার্সারি ট্যাংকে ৬০ দিন ধানী পোনা লালন করা হয়। প্রতিটি স্ত্রী মাছ থেকে প্রায় ১৫০-২৫০টি পোনা মিলেছে।
ভারতের জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে এই গবেষণা হয়েছে। প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর না করে কোনো মাছ চাষের প্রথম ধাপ হ্যাচারির নির্ভরযোগ্য পোনা। বাংলাদেশেও সরপুঁটি পরিচিত খাবার মাছ।
ছবি: Viswaprabha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)