সামুদ্রিক বিজ্ঞান, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে যৌথ গবেষণা বাড়াতে জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শিগগিরই চুক্তিটি সই হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্সের (জেএসপিএস) সহায়তায় 'রাসায়নিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ওয়ান হেলথ পদ্ধতি' শীর্ষক কোর-টু-কোর সিম্পোজিয়াম হয়। আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মেরিন এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ (সিএমইএস)। বাংলাদেশ, জাপান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও মোজাম্বিকের গবেষকেরা এতে অংশ নেন। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল চিকিৎসা, কৃষি, মৎস্যচাষ ও পশুপালনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের কারণে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি কমানো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, যিনি বাংলাদেশের বায়ুর মান, দূষণের উৎস ও স্বাস্থ্যে তার প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন। মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী তুলে ধরেন পাঙ্গাস মাছের বৃদ্ধিতে খাদ্যে সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক ন্যানো-পার্টিকেলের প্রভাব নিয়ে গবেষণা। একই বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আলোচনা করেন দেশের জলজ পরিবেশে অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স আর ঝুঁকি কমানোর কৌশল নিয়ে।
আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর ঢাকা দক্ষিণ সিটির রাসায়নিক গুদাম থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে পোস্টার উপস্থাপন করেন। সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্নেন্সের (আইসিওজি) পরিচালক কে এম আজম চৌধুরী উত্তর বঙ্গোপসাগরে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঋতুভিত্তিক ওঠানামা আর অক্সিজেন-স্বল্প এলাকা নিয়ে যৌথ গবেষণার ফল জানান। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন মৎস্যবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. হাবিবুল্লাহ-আল-মামুন।
৮ অক্টোবর আইসিওজি ও সিএমইএসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সিএমইএসের পক্ষে ছিলেন অধ্যাপক জিনইউ গুও ও পরিচালক অধ্যাপক আকিহিকো মরিমোতো। বৈঠকে বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির জন্য সিএমইএসের ফিজিক্যাল-ইকোসিস্টেম অ্যান্ড পলিউশন কাপলিং মডেলের গুরুত্ব নিয়ে কথা হয়, আর সামুদ্রিক গবেষণা, মডেলিং ও পূর্বাভাসে সহযোগিতা বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক আবদুস সালাম।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমঝোতা স্মারকের ফলে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় আর গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
ছবি: Melanochromis / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); পাঙ্গাস মাছ
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)