চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বন্যপ্রাণী উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের (এসআরটিবিডি) উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ সাইমুন। শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।
সাইমুন লিখেছেন, গত কয়েক দিনে সাপ ও সাপের ডিম উদ্ধারের পর বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ফোটা বাচ্চাগুলো উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করার পর তাঁকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে বিরূপ প্রচারণা চলেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সচেতনতা আর সাপ ও মানুষের সহাবস্থানের জন্য কাজ করছেন, মানুষের ক্ষতি করা কখনো উদ্দেশ্য ছিল না।
এখন থেকে সন্দ্বীপের কোনো বাড়িতে সাপ বা অন্য বন্যপ্রাণী নিয়ে সমস্যা হলে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, সন্দ্বীপের মানুষ নিরাপদে থাকুক এবং বন্যপ্রাণীও নিজের পরিবেশে বেঁচে থাকার সুযোগ পাক।
বিতর্কের মূল জায়গা অবমুক্তির স্থান। সাইমুনের পোস্টে মন্তব্যে মো. সাদিক খান লিখেছেন, কেউ সাপ উদ্ধার বা উদ্ধারকারীর বিপক্ষে নন, আপত্তি অবমুক্তি নিয়ে; সন্দ্বীপে গহিন বন নেই, তাই ছেড়ে দেওয়া সাপ লোকালয়েই আসবে, আর দ্বীপে চিকিৎসা ও যাতায়াতের সুবিধাও সীমিত। ২৪ অক্টোবর বিষধর গোখরা অবমুক্তির ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই তিনি আপত্তি জানিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন।
আরেক মন্তব্যকারী জুয়েল আফসার রায়হান উদ্ধারকাজকে উপকারী বললেও বিষধর সাপের বাচ্চা সন্দ্বীপে না ছেড়ে চট্টগ্রামের গহিন বনে ছাড়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, গত এক সপ্তাহে চার-পাঁচজনকে সাপে কেটেছে; এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অনেকে আবার সাইমুনের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলেছেন। নজরুল ইসলাম নাবিল লিখেছেন, সন্দ্বীপে তাঁর অবদান ভোলার নয়, একদিন দ্বীপবাসী তাঁকে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করেন।
ছবি: গোখরা সাপ (প্রতীকী), Thomas Jaehnel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)