নানা নিকুরাদজে (Nana Nikuradze) পড়াশোনা করেছেন জার্মান ভাষা নিয়ে, কৃষি নিয়ে নয়। সন্তান হওয়ার পর পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার ফলানোর সিদ্ধান্ত নেন, আর চাষাবাদই হয়ে ওঠে তাঁর মূল কাজ। স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি পশ্চিম জর্জিয়ার সামত্রেদিয়ায় এক হেক্টর জমিতে মিষ্টি মরিচ, বেগুন, টমেটো, কাঁচা মরিচ, তরমুজজাতীয় মেলন ও ভুট্টা চাষ করেন; ভালো বছরে উদ্বৃত্ত বিক্রি হয় কাছের বড় শহর কুতাইসির বাজারে।
আট বছরের চাষজীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি প্রচলিত পদ্ধতিতেই চাষ করেছেন। বদল আসে দুই বছর আগে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইডেন সরকারের সহায়তায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাস্তবায়িত কৃষি ও পল্লী উন্নয়নের ইউরোপীয় প্রতিবেশী কর্মসূচির (এনপার্ড-৪) কৃষক মাঠ স্কুলে যোগ দেওয়ার পর। এসব স্কুলে বালাইনাশকের নিরাপদ ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য, চারা ও পানি ব্যবস্থাপনা এবং ফসলের বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি শেখানো হয়।
এ বছর প্রথমবারের মতো তিনি নিজেই কম্পোস্ট বানাচ্ছেন: ফসলের অবশিষ্টাংশ, খড়, সবুজ লতাপাতা আর নিজের ছোট দুগ্ধ খামারের গোবর স্তরে স্তরে সাজিয়ে পচতে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, "আমার লক্ষ্য রাসায়নিক সারের শতভাগ জায়গায় স্বাস্থ্যকর জৈব কম্পোস্ট দেওয়া, আরও স্বাস্থ্যকর খাবার ফলানো।" তাঁর গ্রামের কৃষকেরা আগে ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলতেন; "এতে মাটির জৈব পদার্থ নষ্ট হতো, উপকারী পোকাও মরত," বলেন তিনি। যা একসময় ধোঁয়া হয়ে উড়ে যেত, তা এখন মাটিতে ফিরছে, সারের খরচও কমছে।
মৌমাছির কয়েকটি কলোনি রাখেন বলে তিনি প্রায় কোনো কীটনাশকই ব্যবহার করেন না; পোকা দমন হয় হাতে বাছাই করে আর মাঠ স্কুল থেকে পাওয়া ফেরোমন ফাঁদে। এফএওর কৃষিতত্ত্ব ও সম্প্রসারণ বিশেষজ্ঞ রাতি খারশিলাদজে (Rati Kharshiladze) বলেন, রাসায়নিক উপকরণ ছাড়া কিছু ফলন কমতে পারে, "কিন্তু লাভ হয় মাটি, উপকারী পোকা আর কীটনাশকের অবশিষ্টাংশমুক্ত ফসল।" এসব পদ্ধতি যত দীর্ঘদিন চলে, সুফল তত বাড়ে।
তাঁর ব্রকলি, তরমুজ ও মেলন রাসায়নিক সারে ফলানোগুলোর চেয়ে ছোট হয়, তবে গন্ধ ও স্বাদে ভালো, বলেন নানা। ক্রেতারা যেন এই পার্থক্য বোঝেন এবং রাসায়নিক ছাড়া চাষ করা কৃষকেরা আরও সহায়তা পান, এটাই তাঁর চাওয়া। জমিতে কয়েকটি ছোট অতিথিকুটির বানানোর পরিকল্পনা আছে তাঁর, যাতে শহরের মানুষ এসে সবজি তুলতে, জর্জিয়ার রান্না দেখতে আর নিজেরা কম্পোস্টের স্তূপ বানাতে পারেন। এফএও জানিয়েছে, মাঠ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এনপার্ড কর্মসূচি জর্জিয়াজুড়ে ১,৫০০-র বেশি ফসলচাষির কাছে পৌঁছেছে।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)