ফসল রক্ষা ও পুষ্টির জন্য অণুজীব ও প্রাকৃতিক উৎসের যেসব পণ্য ব্যবহৃত হয়, কৃষিতে সেগুলোকে বলা হয় বায়োলজিক্যালস। এশিয়ায় এমন পণ্যের অভাব নেই, অভাব আস্থাযোগ্য মাঠ-তথ্যের। সেই ঘাটতি পূরণে সিঙ্গাপুরে এশিয়া বায়োলজিক্যালস সামিট ২০২৬-এ ঘোষণা হয়েছে বিজ্ঞাননির্ভর অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এশিয়া বায়োলজিক্যালস ফাউন্ডেশন (Asia Biologicals Foundation)।
কাজ শুরু হবে ধান, কাসাভা ও কোকো দিয়ে; অন্য ফসলও বিবেচনায় আছে। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলো জৈব উপকরণ নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও মাঠ-তথ্য তৈরি করেছে, কিন্তু তা ফসল, পণ্য ও বাজারভেদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় তুলনা করা কঠিন, আস্থাও তৈরি হয় না। ফাউন্ডেশনটি যৌথ গবেষণা-সক্ষমতা, যাচাইয়ের পদ্ধতি, তথ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামো ও তুলনাযোগ্য প্রমাণ তৈরি করবে, যা যাবে এশিয়া বায়োলজিক্যালস প্ল্যাটফর্মের ফসলভিত্তিক কর্মসূচিতে।
আন্তর্জাতিক কৃষি ও জীববিজ্ঞান কেন্দ্র ক্যাবির (CABI) প্রধান বিজ্ঞানী ড. উলরিখ কুলমান (Ulrich Kuhlmann) বলেন, "বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ঘাটতিতে থাকলে ঝুঁকি বইতে হয় কৃষককে, আর অনিশ্চয়তা গ্রহণের পথ আটকে দেয়।" আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (ইরি) মহাপরিচালক ড. ইভন পিন্টো (Yvonne Pinto) বলেন, জৈব কৃষিতে বিনিয়োগ যত বাড়ছে, বৈজ্ঞানিক দায়িত্ববোধকেও তত এগোতে হবে; এসব উপকরণ জীবন্ত কৃষি-ব্যবস্থার সঙ্গে কীভাবে মেশে এবং পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে, তা বুঝতে নতুন বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব দরকার।
এশিয়া বায়োলজিক্যালস প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও অ্যাগ্রিফুড ফিউচার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা জশুয়া সু (Joshua Soo) বলেন, খাতটি সাধারণত পণ্য কাজ করে কি না, তা প্রমাণ করেই সরাসরি কৃষককে তা নিতে বলে; মাঝখানের "প্রয়োগ-প্রস্তুতি" ধাপ, অর্থাৎ নিয়মকানুন, অর্থনীতি, প্রমাণ ও বিতরণব্যবস্থা উপেক্ষিত থাকে। এক বাজারের প্রমাণ আরেক বাজারে খাটে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, "বাজারে আরও জৈব পণ্য ঢোকানো লক্ষ্য নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত আরও ভালো কাজ করা কৃষি-ব্যবস্থা।"
ওয়ার্ফ৪২-এর সহায়তায় অ্যাগ্রিফুড ফিউচার্স ক্যাবি, ইরি, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর, মার্স, সালিম অ্যাগ্রোকেমিক্যালস ও থাই ওয়াহসহ বিজ্ঞানী ও প্রতিষ্ঠানকে এক করে প্রথম ফসল-কর্মসূচিগুলো সাজিয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানী পল টেং উদ্যোগটিকে আসিয়ানের খাদ্য, কৃষি ও বন খাতের ২০২৬-২০৩০ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেন। পরিচালনা কাঠামো ও গবেষণার অগ্রাধিকার ঠিক হবে সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক, দাতব্য ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে।
ছবি: Bảo Trí Nguyễn (cassava on a Vietnamese farm) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)