ফিনল্যান্ডের পোকামাকড় চাষের স্টার্টআপ ভোলারে (Volare) পোরি শহরে প্রথম শিল্প-আকারের কারখানা চালু করেছে, যেখানে বছরে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টন পোকার প্রোটিন ও ২,০০০ টন তেল তৈরি হবে। এজিফান্ডনিউজে এলেইন ওয়াটসন (Elaine Watson) জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কারখানা নির্ধারিত সময়ে এবং দেড় কোটি ইউরোর মূলধনি বাজেটের মধ্যেই তৈরি হয়েছে।
একসময়ের সংবাদপত্র ছাপাখানার ভবনে গড়া কারখানাটি প্রতি শিফটে চারজন কর্মী দিয়ে চালানোর মতো করে নকশা করা। স্থানীয় খাদ্যশিল্পের উপজাত খাইয়ে এখানে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই নামের মাছির লার্ভা পালন করা হয়। উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ এর মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে; মাছের খাদ্য প্রস্তুতকারক স্ক্রেটিং এবং নাম প্রকাশ না করা একটি বৈশ্বিক রাসায়নিক কোম্পানির সঙ্গে কেনার চুক্তি আছে।
২০২২ সাল থেকে একটি পরীক্ষামূলক কারখানা থেকে ভোলারে প্রোটিন বিক্রি করছে: আলভার পেটের সঙ্গে কুকুরের খাবার, ভাফো গ্রুপের সঙ্গে বিড়ালের খাবার আর অলটেক ফেনোঅ্যাকুয়ার সঙ্গে রেইনবো ট্রাউট মাছের খাদ্য। জৈব পোলট্রি খাদ্যেও এর প্রোটিন ব্যবহৃত হয়েছে। স্প্রিংভেস্টের মাধ্যমে তোলা ৭১ লাখ ইউরোর নতুন তহবিল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন দ্বিতীয় শিল্প-কারখানার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মে পোকার খামারে ভোক্তার ফেলে দেওয়া খাবার ও বেশির ভাগ প্রাণিজ উপজাত খাদ্য হিসেবে দেওয়া যায় না। প্রধান নির্বাহী ইয়ার্না হুভোনেন (Jarna Hyvönen) বলেন, সময়ের সঙ্গে নিয়ম শিথিল হতে পারে, "তবে আমাদের ব্যবসার মডেল এই পরিবর্তনের ওপর দাঁড়িয়ে নেই।" তাঁর মতে, বিদ্যুৎ, শ্রম ও বর্জ্যপানির খরচেও সাশ্রয় সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রোটিন তৈরির শুষ্ক প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগে, আর লার্ভার বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতিতে প্রায় ৫০ শতাংশ কম।
হুভোনেন বলেন, নতুন কারখানাগুলো এ খাতের প্রথম দিকের ভুল থেকে শিখেছে: "যত বেশি জমকালো প্রযুক্তি, তত ভালো, ব্যাপারটা তা নয়; আসল কথা হলো কার্যকর করা আর চালু রাখা।" তাঁর মতে, মাছের খাদ্যের ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের নিশ্চয়তাই সবচেয়ে বড় বিষয়, আর অন্য অনেক নতুন প্রোটিনের তুলনায় পোকামাকড় চাষ বড় পরিসরে যাওয়ার বেশি কাছাকাছি; মানের ক্ষেত্রে দাম ছাড়াও হজমযোগ্যতা, স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণ বিবেচ্য।
ছবি: Didier Descouens (an adult black soldier fly, Hermetia illucens) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)