কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও ভাসানচরের শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অর্ধেকের বেশি শিশু। ঢাকা পোস্টের দুই পর্বের বিশেষ প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব বলছে, সহায়তার ঘাটতি, পুষ্টির সংকট আর সংক্রামক রোগে এই শিশুদের শৈশব বিপন্ন। ইউনিসেফ, ইউএনএইচসিআর ও অংশীদার সংস্থাগুলোর হিসাবে অন্তত ৬ লাখ ২৪ হাজার শিশুর জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ইউনিসেফের হিসাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তীব্র অপুষ্টিতে হাসপাতালে ভর্তি শিশু আগের বছরের একই সময়ের ৮৩৬ জন থেকে ২৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬২ জনে দাঁড়ায়; জানুয়ারিতে বৃদ্ধির হার ছিল ২৫ শতাংশ। সংস্থাটি আশঙ্কা করেছিল, ২০২৫ সালজুড়ে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ শিশু চরম অপুষ্টির শিকার হতে পারে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ শিশুকে অপুষ্টির জন্য স্ক্রিনিং করা হয়েছে, তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা ৬ হাজার ৮০০ শিশু জরুরি চিকিৎসা পেয়েছে। ৮৭ হাজার ৩০০ অভিভাবক শিশুখাদ্য নিয়ে পরামর্শ পেয়েছেন, ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭০০ শিশু ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়েছে। নিউট্রিশন সেক্টরের সাতটি অংশীদার সংস্থা ৩৩টি ক্যাম্পে সমন্বিত পুষ্টিকেন্দ্র চালাচ্ছে; ক্যাম্পের মানুষ সেখানকার নারী পরামর্শকদের ডাকেন ‘পুষ্টি আপা’।
নতুন উদ্বেগও আছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে জটিলতাসহ চরম অপুষ্টির চিকিৎসা বিশেষায়িত পুষ্টি খাত থেকে সরিয়ে সাধারণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অধীনে নেওয়ার পর জটিল অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির হার হঠাৎ কমে গেছে। ইউনিসেফের আশঙ্কা, এসব শিশু হয়তো ঠিকমতো শনাক্ত বা রেফার হচ্ছে না; রেফারেল জোরদার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫-২৬ সালের জনস্বাস্থ্য চাহিদা মূল্যায়নে ২ হাজার ১৪টি পরিবারের জরিপে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত পরিবারের হার ২০২৪ সালের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে; গর্ভকালীন সেবা নেওয়ার হার নেমেছে ৩৫ শতাংশে, শিশুদের অসম্পূর্ণ টিকাদানের হার ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। জুনে সংস্থাটি জানায়, কক্সবাজারের স্বাস্থ্য খাতে তাদের চাহিদার ৬৪ শতাংশ অর্থের ঘাটতি রয়েছে, যা রোগ নজরদারি ও জরুরি সাড়া দুর্বল করতে পারে।
কুতুপালং শিবিরের পুষ্টি পরামর্শক সাদিয়া আরাফিন বলেন, অপুষ্টির চিকিৎসা অনেক সময় ওষুধ দিয়ে নয়, আন্তরিক কথোপকথন আর বোঝানো দিয়ে শুরু হয়; গুরুতর অপুষ্টিতে থাকা কোনো শিশুর ক্ষুধা ফিরে আসা ও ওজন বাড়তে দেখাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ছবি: Anton Gutmann / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); কুতুপালং শিবিরের শিশুরা
সূত্র: ঢাকা পোস্ট





মন্তব্য
(০)