সংকট চরমে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে কৃষকদের উচিত বাড়তে থাকা মানসিক চাপ চিনে নিয়ে আগেভাগেই সাহায্য চাওয়া। ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে যুক্তরাজ্যের কৃষকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা ডিপিজে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক কেট মাইলস (Kate Miles) এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কৃষিখাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মনোভাব বদলাচ্ছে; মানসিক অসুস্থতা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক মানুষ এখন ক্রমেই সংখ্যালঘু, যদিও পথ এখনো অনেক বাকি। কৃষকেরা বরাবর নিজের ভালো-মন্দ উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য বোধ করেছেন, সেই ধারা এখন বদলাতে শুরু করেছে।
কেট মাইলসের মতে, এ বছরের খরা, দাবানল আর পশুরোগের প্রাদুর্ভাব চাপ বাড়িয়েছে, অনেক কৃষক বিশ্রামের সুযোগই পাননি। বিশেষ করে খরা ও ব্লুটাং রোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, যেমন ভেড়ার গর্ভ পরীক্ষা ও বাচ্চা জন্মের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা, তাঁকে ভাবাচ্ছে।
শীতের আগে তিনি কৃষকদের নিজের অবস্থা যাচাই করতে, ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করতে এবং কোথায় কী সহায়তা আছে তা জেনে নিতে বলেন। কৃষি দাতব্য সংস্থাগুলো ব্যবহারিক সাহায্য দিচ্ছে, যেমন অ্যাডিংটন ফান্ডের পশুখাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এবং শীতের খাদ্যঘাটতিতে পড়া কৃষকদের জন্য খরা-সংক্রান্ত অনুদান। ওয়েলসের ফার্মিং কানেক্টের মতো জ্ঞান বিনিময়ের আয়োজনে গেলে পরামর্শের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গও মেলে; একা থাকলে নিচে তলিয়ে যাওয়া অনেক সহজ, বলেন তিনি।
ফাউন্ডেশনটি চাপ বোঝাতে একটি বালতির ধারণা ব্যবহার করে, যা সমস্যা জমতে জমতে ভরে ওঠে। ব্যায়াম, বিরতি নেওয়া, দুশ্চিন্তা লিখে রাখা বা কারও সঙ্গে কথা বলা, যেটিতে বালতি খালি হয় তা জেনে দৈনন্দিন রুটিনে রাখলে চাপ অসহনীয় হয়ে ওঠা ঠেকানো যায়। কৃষিখাতে অবসাদ ও ক্লান্তি সত্যিকারের হুমকি, সতর্ক করেন কেট মাইলস।
তিনি অন্য কেউ কষ্টে আছেন কি না খেয়াল রাখতে এবং বিশেষ করে যাঁরা অনুভূতি লুকিয়ে রাখেন, তাঁদের সঙ্গে কঠিন আলাপ শুরু করার সাহস রাখতে বলেন। দিবসটি উপলক্ষে ফাউন্ডেশন 'টেক টেন' বার্তা প্রচার করছে: দশ মিনিট সময় দিয়ে কারও খোঁজ নেওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা বা নিজের চাপ সামলানো। যুক্তরাজ্যে ফার্মিং কমিউনিটি নেটওয়ার্ক, আরএবিআই, ইয়ানা, আরএসএবিআই ও ডিপিজে ফাউন্ডেশন কৃষকদের জন্য হেল্পলাইন চালায়।
ছবি: Geoff Charles / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)