ধান চাষে জলবায়ু-সহিষ্ণু পদ্ধতি ছড়াতে হলে কার্বন ক্রেডিটসহ নানা প্রণোদনা থেকে চাষির হাতে সত্যিকারের টাকা পৌঁছাতে হবে। ভারত আন্তর্জাতিক ধান সম্মেলন (বিআইআরসি) ২০২৬-এর সপ্তম জ্ঞান অধিবেশনে এমনটাই বলেছেন বক্তারা। অধিবেশনের বিষয় ছিল ধানের সরবরাহ শৃঙ্খলে টেকসই উদ্যোগ ও কার্বন ক্রেডিট। খবরটি দিয়েছে ভারতের কৃষি ব্যবসা সাময়িকী অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম।
সঞ্জয় শেঠি (Sanjay Sethi) বলেন, জমি সারাক্ষণ ডুবিয়ে না রেখে দুই সেচের মাঝে শুকাতে দেওয়ার পদ্ধতি, অর্থাৎ পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি), ধানখেত থেকে মিথেন নিঃসরণ কমাতে পারে। সরাসরি বীজ বোনা ধান (ডিএসআর) মাঠে চালু করার নানা সমস্যার কথাও তোলেন তিনি, আর বলেন, কার্বন ক্রেডিট এসব পদ্ধতি নিতে চাষিকে আর্থিক কারণ দিতে পারে।
বরুণ কুমার (Barun Kumar) তেলেঙ্গানার একটি উদাহরণ দিয়ে "অনেক খামার, এক কার্বন প্রকল্প" ধারণা ব্যাখ্যা করেন, যেখানে আলাদা আলাদা খামার মিলিয়ে একটি বড় প্রকল্প করা হয়। এতে ছোট চাষিদের পক্ষে কার্বন বাজারে ঢোকা সহজ হতে পারে। কৌশল বিশত (Kaushal Bisht) প্রকৃতিভিত্তিক কার্বন অপসারণকে ক্ষুদ্র চাষিদের আরেকটি সুযোগ বলেন, আর ধানের খড় ও তুষকে চক্রাকার অর্থনীতির সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর কথা বলেন।
দীপক পারিক (Deepak Pareek) বলেন, টেকসই কর্মসূচিতে পানির সাশ্রয় আর নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি চাষির স্পষ্ট আর্থিক লাভ থাকতে হবে। গরিমা যোশী (Garima Joshi) জলবায়ুর ঝুঁকি ও অস্থির বাজারের মুখে প্রযুক্তি গ্রহণ, চাষিদের সচেতনতা আর নতুন করে সাজানো প্রণোদনার ওপর জোর দেন। ড. সৌরভ বাডোনি (Saurabh Badoni) চালের চেহারা ও মিলিং মান ধরে রাখা, কম গ্লাইসেমিক সূচকের চালের বাজার সম্ভাবনা এবং দানার ওপর তাপের চাপের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।
মনীষা গুপ্তার সঞ্চালনায় অধিবেশনটি শেষ হয় সহায়ক নীতি, কার্যকর আর্থিক প্রণোদনা ও ব্যাপক সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে; বক্তারা টেকসই চাষকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখার পরামর্শ দেন, যা পরিবেশের পাশাপাশি খামারের আয়ও মজবুত করে।
ছবি: Prathvi Acharya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)