কৃষিজমিকে আবার দেশি গাছপালায় ফিরিয়ে আনলে মাটির ছত্রাক গাছের মতো একই গতিতে সুস্থ হয়ে ওঠে না। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় বছরের এক গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে।
ফ্লিন্ডার্সের রেস্টোরেশন ইকোলজি দলের অধ্যাপক মার্টিন ব্রিড (Martin Breed)-এর নেতৃত্বে গবেষণাটি প্রকাশ হয়েছে মলিকুলার ইকোলজি সাময়িকীতে। ছয় বছর ধরে একই প্লট থেকে বারবার নমুনা নেওয়া হয়েছে। সহ-লেখক ফ্লিন্ডার্সের কার্ল ডি. ওয়াটসন, আলফি জে. লেম ও ক্রেইগ লিডিকোট এবং হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরওর অ্যান্ড্রু বিসেট।
গবেষকেরা দেখেছেন, ছত্রাকের কাজ, যেমন পুষ্টি চক্র সচল রাখা ও জৈব পদার্থ ভাঙা, পুরো ছয় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু ছত্রাক সম্প্রদায়, অর্থাৎ কোন কোন প্রজাতি আছে, সেই মিশ্রণ একই সময়ে তুলনামূলক খুব কম বদলেছে। মানে মাটি সঠিক জৈব কাজ বেশি করছে, যদিও কাজগুলো যারা করছে, তারা অক্ষত প্রাকৃতিক এলাকার ছত্রাকের কাছাকাছি খুব একটা যায়নি। ব্রিড বলেন, গবেষণায় ছয় বছর ধরে কাজের দিক থেকে ধারাবাহিক পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ পরিবর্তন পাওয়া গেছে।
লেখকদের ধারণা, জমিটি আগে কৃষিজমি ছিল এবং পুরোনো সার প্রয়োগে মাটিতে পুষ্টির মাত্রা বেশি থেকে গেছে; দেশি গাছ ফিরলেও এটি ছত্রাক সম্প্রদায়ের পুরো পুনরুদ্ধারে দীর্ঘস্থায়ী বাধা হয়ে থাকতে পারে।
ব্যবহারিক শিক্ষা হলো, মাটির ওপরের সবুজ, যা পুনরুদ্ধার প্রকল্পে মাপা সবচেয়ে সহজ, তা মাটির পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা দেয় না। পুরোনো ফসলি জমি বা চারণভূমিকে প্রাকৃতিক আবাসে ফেরানোর বনায়ন, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিপূরণ ও কার্বন প্রকল্পগুলো প্রায়ই গাছের আচ্ছাদন আর বেঁচে থাকা গাছের সংখ্যা দিয়ে সাফল্য মাপে। গবেষণাটি বলছে, দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা ও কার্বন সঞ্চয়ের ভিত্তি মাটির জীবজগৎ অনেক পিছিয়ে থাকতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘদিন সার ব্যবহৃত জমিতে।
ছবি: Mundoo (revegetation on Hindmarsh Island, South Australia) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture




মন্তব্য
(০)