ঢাকার আফতাবনগরে বালু নদীর তীরের খালি প্লটগুলো শরতে কাশফুলে সাদা হয়ে ওঠে, আর সেই কাশবনে বংশবৃদ্ধির জন্য আসে আলতা রঙের এক পাখি: লাল মুনিয়া, যাকে পক্ষী আলোকচিত্রীরা আদর করে 'লাল্টু' ডাকেন। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত লেখায় পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আ ন ম আমিনুর রহমান এই পাখির খোঁজে যাওয়ার অভিজ্ঞতা লিখেছেন।
২৪ অক্টোবর বিকেলে প্রকৃতিবিদ ও আলোকচিত্রী ক্যাপ্টেন কাওসার মোস্তফাকে নিয়ে তিনি সেখানে যান। অন্য আলোকচিত্রীরা জানান, দুপুর ১টায় অন্তত ৫০ জোড়া পাখি এসেছিল। পৌনে ৫টায় দু-তিনটি স্ত্রী পাখি আসে, আর পুরুষেরা আসে ৫টার পর; ৪৫ মিনিটে চার-পাঁচ বার, তবে পাঁচ-ছয় জোড়ার বেশি নয়। শরৎ শেষ হওয়ায় কোথাও কোথাও কাশ কাটাও শুরু হয়ে গেছে।
লাল মুনিয়া (Amandava amandava) এ দেশের আবাসিক পাখি, রাঙা মুনিয়া, আলতা মুনিয়া বা সোনামুনে নামেও পরিচিত; ভারতীয় উপমহাদেশ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এশিয়ায় এর বাস। লম্বায় ১০ সেন্টিমিটার, ওজন ৯ গ্রাম। প্রজননকালে পুরুষের পুরো দেহ আলতা লাল হয়, লালের ওপর ডানা ও পেটে সাদা ফোঁটা থাকে; চোখ টকটকে লাল, ঠোঁট প্রবাল লাল। স্ত্রী ও প্রজননহীন পুরুষ বাদামি, কোমর গাঢ় লাল।
দেশের প্রায় সব জায়গায় দেখা মিললেও অন্য মুনিয়ার তুলনায় এরা কম। নিরীহ ও ভীতু এই পাখি ছোট ঝাঁকে ঘাসবন, জলাভূমি বা চষা খেতের ধারের ঝোপে চরে, ঘাস ও কাশের বীজ ছাড়াও ধান, কাউন, তিল, সরষে, চিনা, ডাল ও মটর খায়, পোকামাকড়েও আপত্তি নেই।
আগস্ট থেকে অক্টোবর এদের প্রজননকাল। পুরুষ ঘাস বা নলখাগড়ায় বসে গান গেয়ে সঙ্গী ডাকে, তারপর দুজনে মিলে নলখাগড়া, হোগলা, উলুঘাস, কাশ বা বাঁশবনে গোল বাসা বোনে; সরু ঘাস ও ধানপাতার ভিত, চারপাশে কাশফুল, ভেতরে কাশ বা তুলোর গদি, আর শত্রুর চোখ এড়াতে গোপন সরু ঢোকার পথ। চার থেকে সাতটি মুক্তার মতো সাদা ডিম ফোটে ১২-১৬ দিনে, ছানারা ১৯-২৪ দিনে উড়তে শিখে বাসা ছাড়ে।
লেখকের উদ্বেগ, ইদানীং লাল মুনিয়াসহ নানা মুনিয়া পোষা পাখির হাটে, বিশেষ করে মিরপুর ১ নম্বরের পাখির হাটে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। অথচ এ দেশে বন্য পাখি ধরা, খাঁচায় রাখা, বিক্রি করা ও পোষা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সবাই সচেতন না হলে একদিন লাল্টুরা প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
ছবি: Shantanu Kuveskar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)