মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিতে নোয়াখালীতে আমনের আবাদ অন্তত এক মাস পিছিয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টি থামার পর সেচ দিয়ে বীজতলা করে সুবর্ণচর, হাতিয়া, সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটের কৃষকেরা আমন লাগান। কিন্তু এরপর দুই মাস বৃষ্টি না হওয়ায় খেতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে, রোদ আর গরমে কয়েক হাজার একরের ধানগাছ ফলন আসার আগেই শুকিয়ে গেছে, ফেটে গেছে জমি।
আজকের পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান রিয়াদ গত শুক্রবার সদর, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এ চিত্র দেখেছেন। সতেজ থাকা গাছেও ফলন আসেনি, ফলে জেলায় এবার আমনের ফলনে বিপর্যয় আর কৃষকের বড় লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুবর্ণচরের চরওয়াপদা ইউনিয়নের কৃষক মো. ইউছুফের আট শতকের খেতের মাটি ফেটে চৌচির, বেশির ভাগ গাছ ঝলসে যাওয়ার মতো শুকিয়ে গেছে; গাছের ছায়ায় থাকা অংশে ধান থাকলেও বেশির ভাগ চিটা। একই ইউনিয়নের মো. মুরাদ উদ্দিন জানান, তাঁর সাড়ে তিন একরের ফসল ঝলসে গেছে। চর আমান উল্লাহর মফিজ উল্লাহ বলেন, আশপাশে পানির উৎস না থাকায় সেচও দেওয়া যাচ্ছে না; ব্যাংকঋণ ও সুদে টাকা নিয়ে চাষ করে তিনি এখন ভেঙে পড়েছেন।
সদরের ধর্মপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, জুলাইয়ে অতিবৃষ্টিতে সময়মতো আবাদ শুরু করতে পারেননি, আর যখন ফলন আসার কথা তখন বৃষ্টি না থাকায় গাছ পুড়ে গেছে। কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন জানান, আবাদে শ্রমিকপ্রতি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দিতে হয়েছে, সঙ্গে সার ও কীটনাশকের খরচ; এখন দূর থেকে পানি আনতে একরপ্রতি আরও পাঁচ হাজার টাকা লাগবে, যা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, এ বছর নোয়াখালীতে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে, চাল উৎপাদনের লক্ষ্য ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫০ টন। উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে, চূড়ান্ত তালিকা পেতে কিছু সময় লাগবে; এরপর সরকারিভাবে প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতের জন্য পানির প্রাকৃতিক উৎস বাড়ানো এবং লবণসহিষ্ণু জাত আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা



মন্তব্য
(০)