চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালীতে এখন কাঁচা হলুদ রোদে শুকানো, বাছাই করা আর বস্তায় ভরার ব্যস্ততা। শত শত শ্রমিক কাজ করছেন, প্রতিটি স্পটে ৮ থেকে ১০ জন। পাহাড়ের হলুদ এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।
রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় হলুদের আবাদ হলেও বেশির ভাগ আসে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম বাজার থেকে। উপজেলার প্রায় পঞ্চাশজন মৌসুমি ব্যবসায়ী কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও ফারুয়া থেকে হলুদ কিনে ট্রাকে আনেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, রাঙ্গুনিয়ায় ৭৫ হেক্টরে হলুদের আবাদ হয়েছে, স্থানীয় কৃষকেরা মূলত নিজেদের চাহিদা মেটাতে এটি করেন।
২৭ বছর ধরে এ ব্যবসায় থাকা আবদুল হক জানান, পৌষ থেকে বৈশাখ মূল মৌসুম। ইছাখালীতে ৪-৫ দিন শুকিয়ে ও বাছাই করে হলুদ বিভিন্ন আড়তে পাঠানো হয়। এক মৌসুমে একেকজন ব্যবসায়ী ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেন।
ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলামের হিসাবে, পাবনা জাতের হলুদ কেজিপ্রতি ১৩০-১৫০ টাকায় কিনে ২২০-২৫০ টাকায় বিক্রি হয়, মোটা জাত ১২০-১৩০ টাকায় কিনে ২০০-২২০ টাকায়। প্রক্রিয়াজাতকরণ ও গাড়িভাড়ায় কেজিতে আরও ৮-১০ টাকা লাগে। হলুদ যায় ঢাকা, কুমিল্লা ও খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে, মসলা কোম্পানিগুলোও এখান থেকে সরাসরি কেনে।
ইছামতীর চাষি বশির আহম্মদ বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ফলন অন্যবারের চেয়ে ভালো হয়েছে, দামও উপযুক্ত, তাই অনেক কৃষক অন্য ফসলের চেয়ে হলুদে আগ্রহী হচ্ছেন। শ্রমিক খুরশিদ আলম জানান, আড়তে ৩-৪ মাস টানা কাজ পান তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক হিমাগার পেলে ব্যবসা আরও বড় করা ও রপ্তানি করা সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, হিমাগার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ছবি: Malcolm Manners / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)