রাজশাহী চিনিকল আগামী ১৩ নভেম্বর আখ মাড়াই শুরু করছে। ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬০ দিনে প্রায় ৭০ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে বলে জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাছুমা আকতার জাহান। চুক্তিবদ্ধ ৩ হাজার ৯০০ চাষি আখ দেবেন।
চলতি মৌসুমে এক কেজি চিনিতে প্রায় ৩০০ টাকা খরচের হিসাব করা হয়েছে, অথচ সরকারি নির্দেশনায় তা বিক্রি হয় ১২৫ টাকায়। গত মৌসুমে লোকসান ছিল ৭০ কোটি টাকা, আগের মৌসুমে প্রায় ৬৯ কোটি। পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. সাদ্দাম হোসেনের দাবি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাদ দিলে নিট লোকসান কম হবে।
মূল সংকট আখ। রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে ২০১৬-১৭ সালে ৪০ হাজার ৮৬৭ হেক্টরে আখ হয়েছিল, ২০২৫-২৬ সালে তা নেমেছে ১৯ হাজার ৩৪০ হেক্টরে। চিনিকলের কৃষি বিভাগ বলছে, টাকা পেতে ভোগান্তিসহ নানা কারণে চাষিরা আখ না দিয়ে গুড় বানাচ্ছেন বা লাভজনক সবজির দিকে ঝুঁকছেন।
গত মৌসুমে ৬৭ দিনের পরিকল্পনা থাকলেও আখের অভাবে ৪৪ দিন পরই উৎপাদন বন্ধ হয়। ৬ হাজার ৯৩০ টন লক্ষ্যের বিপরীতে চিনি মেলে ৩ হাজার ১৭১ টন।
এবার আখের দাম মণপ্রতি ১১ টাকা বাড়িয়ে ২৬০ টাকা করা হয়েছে। নিবন্ধিত চাষি ছাড়াও সাধারণ চাষিরা আখ দিতে পারবেন। মাড়াই শুরুর পর চিনিকল এলাকায় মিনি মাড়াই কল বা গুড় তৈরি চলবে না বলে জানানো হয়েছে।
চিনিকলে ১ হাজার ৫ জন শ্রমিক-কর্মচারী আছেন। আহরণ চলে বছরে প্রায় দুই মাস, কিন্তু বেতন দিতে হয় সারা বছর, লোকসানের এটিও বড় কারণ। আখচাষিদের কাছে এ মৌসুমের নতুন দাম ও সময়মতো টাকা পাওয়াই এখন দেখার বিষয়।
ছবি: Nahid Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)