মাটিতে জমা কার্বনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের এক খামারি পরিবার পেয়েছে ১৮,৮৬৪টি অস্ট্রেলিয়ান কার্বন ক্রেডিট ইউনিট। প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান কার্বনলিংক (CarbonLink) বলছে, এটি রাজ্যের সবচেয়ে বেশি আয় করা মাটির কার্বন প্রকল্প। ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের চ্যাটসওয়ার্থ হাউসে গরু, ভেড়া ও পশম উৎপাদন করেন টম ও সারাহ হুইনি (Tom and Sarah Whinney)।
প্রথম পাঁচ বছরের প্রতিবেদনকালে মাপা মাটির কার্বন বেড়েছে ১০,১২৭ টন। প্রকল্পের নিজের নিঃসরণ বাদ দিলে তা ২৫,১৫২ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমান। হিসাবে হেক্টরপ্রতি বছরে ২.০৭ ইউনিট।
খামারে বদলগুলো ছিল চেনা, তবে যত্ন করে করা। ঘাটতি মেটাতে কম্পোস্ট ও অন্যান্য পুষ্টি দেওয়া হয়েছে, চারণভূমি ও ফসলে শিম জাতীয় উদ্ভিদ আনা হয়েছে, নতুন করে ঘাস বোনা হয়েছে, আর চরানোর ধরন বদলেছে: চারণভূমিকে দীর্ঘ বিশ্রাম, জমি ছোট ছোট ভাগে ভাগ। মাটির জৈব কার্বন ও উর্বরতা বাড়ানো আগে থেকেই তাঁদের লক্ষ্য ছিল; প্রকল্পটি তার ওপর বাড়তি আয় যোগ করেছে।
শুরুতেই যে এমন প্রকল্প কত সহজে বিপথে যেতে পারে, সেটিও দেখা গেছে। ২০২১ সালে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছে নিবন্ধিত প্রকল্পটি ২০২৫ সালে আসে কার্বনলিংকের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের পর্যালোচনায় ভিত্তি পরিমাপে সীমাবদ্ধতা ধরা পড়ে। অথচ ভিত্তি পরিমাপ পুরো প্রকল্পজীবন ধরে একই থাকে।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক সান্তোস আমাদেও (Santos Amadeo) বলেন, প্রথম পরিমাপটি ঠিক হওয়া খুব জরুরি। তাঁর দল আগের ভিত্তি মেনেই নমুনা সংগ্রহ ও হিসাবের ধরন বদলেছে, যাতে মাঠের বাস্তবতা সংখ্যায় উঠে আসে।
প্রধান নির্বাহী ক্রিস ম্যাককস্কার (Chris McCosker) বলেছেন, এসব দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে দরকার হাতে-কলমে ব্যবস্থাপনা, নির্ভরযোগ্য পরিমাপ ও নিয়ম মানার ধারাবাহিক নজর। এই বক্তব্য ও সংখ্যাগুলো প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের। একই পথে যেতে চাওয়া খামারির জন্য শিক্ষা হলো, চারণভূমির কাজের মতোই প্রথম পরিমাপও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সূত্র: Beef Central




মন্তব্য
(০)