নাইজেরিয়ার ফেডারেল রাজধানী অঞ্চলের কিছু অংশে এবার বৃষ্টি আগেভাগেই থেমে গেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার চাষিরা। তখনও বেড়ে উঠছিল যে ফসল, তার ক্ষতি হচ্ছে। এই অঞ্চলে সাধারণত অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়, কিন্তু কয়েকটি পরিবার বলছে, শেষ বৃষ্টি হয়েছে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।
গওয়াগওয়ালাদার গিরিতে স্বামী জোনাথন ইশায়ার (Jonathan Ishaya) সঙ্গে চাষ করেন লারাবা জোনাথন (Laraba Jonathan)। জমিতে পৌঁছাতে তাঁকে ছয় কিলোমিটারের বেশি হাঁটতে হয়। পথে তিনি অন্যদের জমিও দেখেন। সেপ্টেম্বরের শেষে ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেরিতে বোনা শিম ভালো বাড়ছে না, আর ওই চাষিরা কিছুই তুলতে পারবেন না বলে তাঁর ধারণা।
তাঁর স্বামী জানান, এলাকাজুড়ে ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, বিশেষত যেখানে এখনও দানা আসেনি। জুলাইয়ে বোনা ধান এক দফা শুষ্ক সময়ে আটকে যায়, স্ত্রীকে আবার বুনতে হয়। উঁচু জমির ধান তিন মাসে, অক্টোবরের শেষে পাকার কথা ছিল, কিন্তু বেশির ভাগই পাকেনি। ফলন অনেক কমবে বলে তাঁর আশঙ্কা। শুষ্কতায় শুঁয়োপোকা ও ঘাসফড়িংয়ের আক্রমণও হয়েছে।
কোয়ালির পাইয়ের চাষি বুলুস জোসেফও (Bulus Joseph) শেষ বৃষ্টির একই সময় বলেছেন। তাঁর জোয়ার শিষ আসার কাছাকাছি, কী হবে তিনি নিশ্চিত নন। গওয়াগওয়ালাদার আনাগাদার হাবিবা কাসুয়া (Habiba Kasuwa) বলেন, তাঁর জোয়ার শুকানোর লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, ফলন কমবে বলে তাঁর সন্দেহ।
এগুলো চাষিদের নিজের পর্যবেক্ষণ, মাপা বৃষ্টিপাতের হিসাব নয়। এবারের আগাম সমাপ্তির সঙ্গে এল নিনোর সরাসরি যোগ উপাত্ত দিয়ে দেখানোও হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনো বৃষ্টির ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে, তাপমাত্রা ও বাড়তি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আর্দ্রতার চাপও বাড়াতে পারে।
সময়মতো জলবায়ুর তথ্য এবং আগাম পাকা জাত ও পানি ব্যবস্থাপনার মতো ব্যবহারিক উপায় চাষির হাতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে, যা অনেকের এখনও নাগালের বাইরে। আনাগাদা পশুবাজারে পশুর লোম পোড়াতে পুরোনো গাড়ির টায়ার জ্বালানোর নিঃসরণের কথাও এসেছে: এক গবেষণায় বছরে ১৫ লাখ কেজির বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য।
ছবি: Kambai Akau / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)