এক ঘূর্ণিঝড়ের পানিতে যাঁদের ধান এখনও ডুবে, ভারতের দক্ষিণ ওডিশার সেই চাষিদের দিকে এগিয়েছে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ের বৃষ্টি। ২৮ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় আর্নব উপকূলে ওঠে অন্ধ্রপ্রদেশে। এক সপ্তাহের মধ্যে একই রাজ্যের ওঙ্গোলের কাছে আঘাত হানে মুরাসু, আর গঞ্জাম ও গজপতিসহ দক্ষিণ ওডিশায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেন আবহাওয়াবিদেরা।
অন্ধ্রের প্রকাশম ও বাপাতলা জেলায় হাজার হাজার গাছ পড়েছে, শত শত বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মাছ ধরার নৌকা বিধ্বস্ত হয়েছে, জমি ডুবেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
ওডিশায় ভয় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ফসল নিয়ে। আর্নবে গঞ্জাম, কন্ধমাল ও গজপতি জেলায় প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতির হিসাব আগেই দিয়েছিলেন কৃষি কর্মকর্তারা, যার বেশির ভাগ ধান এবং বিশেষ করে গঞ্জামে। এই জেলায় এবার খরিফ মৌসুমে ধানের জমি প্রায় ২.১৬ লাখ হেক্টর, আর সেপ্টেম্বরের শেষের বন্যাতেও ৩,৪০২ হেক্টরের বেশি জমির ক্ষতি হয়েছিল।
চাষিরা বলছেন, নতুন বৃষ্টি বাকিটুকুও শেষ করে দিতে পারে। তাকারাদা গ্রামের সমীর কুমার প্রধান (Sameer Kumar Pradhan) জানান, তাঁর প্রায় ১০ একর জমির ধান আর্নবের পানিতে এখনও ডুবে আছে। দুধ আসার পর্যায়ে থাকা গাছের শিকড় নতুন বৃষ্টিতে পচে যাবে। সামন্তিয়াপল্লীর শঙ্কর কুমার পতি (Shankar Kumar Pati) বলেন, আবার বৃষ্টি হলে তাঁর পুরো ধান নষ্ট হবে।
গঞ্জামের প্রধান জেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন রাউল (Manoranjan Roul) বলেছেন, আবহাওয়া ভালো হলে আর্নবের ক্ষতি জরিপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি (Mohan Charan Majhi) দক্ষিণের জেলাগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য ৫০ কেজি চাল ও ২,৫০০ রুপি এবং আর্নবে ফসল ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন।
যেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষির ৩৩ শতাংশ বা তার বেশি ফসল নষ্ট হয়েছে, তাঁরা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন: বৃষ্টিনির্ভর ও সেচহীন এলাকায় হেক্টরপ্রতি ৮,৫০০ রুপি, নিশ্চিত সেচের এলাকায় ১৭ হাজার রুপি। ক্ষতি নিরূপণ ও বন্যা সামলাতে আরও ১৪৫ জন কৃষিকর্মী পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।
ছবি: Prathvi Acharya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)