২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ১২০ কোটি পাউন্ডের সরকারি কৃষি গবেষণা তহবিল খাতের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে নতুন এক প্রতিবেদন। সেন্টার ফর অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইমপ্যাক্ট (Ag.Impact) তৈরি করা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয় ২০ অক্টোবর।
তুলনার ভিত্তি ৬০০-র বেশি উত্তরদাতার জরিপ, যাঁদের ৩০০-র বেশি চাষি, সঙ্গে সাক্ষাৎকার ও কর্মশালা। জরিপে অংশ নেওয়া চাষিদের বেশির ভাগ লাভজনক চাষকেই সবার ওপরে রেখেছেন। সব পক্ষই একমত, গবেষণা হওয়া উচিত হাতে-কলমে সমস্যা নিয়ে এবং শুরু থেকেই চাষিদের যুক্ত করে।
একটি সংখ্যা আলাদা করে চোখে পড়ে: আন্তঃবিষয়ক প্রকল্প পাচ্ছে বিশ্লেষিত তহবিলের মাত্র ৭ শতাংশের মতো। প্রতিবেদনে সমন্বয় বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং খামার নেটওয়ার্ক, দক্ষতা, তথ্য বিনিময়, বিশেষায়িত সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষায় বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক টম ম্যাকমিলান (Professor Tom MacMillan) বলেছেন, লক্ষ্য হলো অর্থ কোথায় যাচ্ছে আর কোথায় দরকার, তার স্পষ্ট ছবি অর্থদাতাদের সামনে রাখা।
ধৈর্যের যুক্তি আসে ফসল প্রজননের সময়সীমা থেকে। উদাহরণ হিসেবে এসেছে অ্যাবেরিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান, পরিবেশ ও গ্রামীণ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কাজ। সেখানে উন্নত ঘাস ও শিম জাতীয় পশুখাদ্য তৈরিতে ১৫ থেকে ২০ বছর লাগতে পারে। গবেষণাগার থেকে চাষির জমি পর্যন্ত পথে আছে জার্মিনাল, জার্মিনাল হরাইজন ও সেনোভার মতো বাণিজ্যিক অংশীদার।
ইনস্টিটিউটের প্রধান অধ্যাপক ইয়ান ডনিসন (Professor Iain Donnison) বলেছেন, উন্নত জাত তৈরি অনেক সময় কয়েক দশকের কাজ, এর জন্য টানা অর্থায়ন ও পুরো খাতের অংশীদারত্ব দরকার।
চাষিরা সরাসরি দেখতে পান, এমন স্বল্পমেয়াদি কাজের কথাও আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুক্তরাজ্যের পরিবেশ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অ্যাডপ্ট (ADOPT) কর্মসূচির কথা, যেখানে চাষিদের দল গবেষণা সহায়তা নিয়ে নিজেদের জমিতে নতুন ধারণা পরীক্ষা করে ফল ভাগ করে নেন। ম্যাকমিলানের মতে, এই কাজের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কর্মসূচিও চাই, কারণ আজকের সিদ্ধান্তই কয়েক দশক পরে চাষির সামনের বিকল্প ঠিক করবে।
প্রতি বছর এই বিশ্লেষণ হালনাগাদ করার পরিকল্পনা আছে সংস্থাটির।
ছবি: Arthur Chapman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Seed World Europe





মন্তব্য
(০)