আগামী সপ্তাহে তুরস্কের আন্তালিয়ায় শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের খাবারে এবার মাংসমুক্তের একটি লক্ষ্যমাত্রা আছে। কপ৩১-এর সভাপতিত্বকারী কর্তৃপক্ষ ৬০ শতাংশ মাংসমুক্ত খাবারের লক্ষ্য ঠিক করেছে বলে জানিয়েছে ২০টির বেশি অলাভজনক সংগঠনের জোট ফুড অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপ।
সম্মেলনস্থলে থাকবে পুরো উদ্ভিজ্জ খাবারের ক্যাফে, আর ফুড কোর্টে ডাকা হয়েছে আন্তালিয়ার দুটি ভিগান প্রতিষ্ঠানকে। উপাদান ও পুষ্টির তথ্যসহ পরিষ্কার লেবেলের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আয়োজকেরা। জোটের সদস্য প্রোভেগ ইন্টারন্যাশনাল, প্ল্যান্ট বেসড ট্রিটি ও ক্লাইমেট ব্রিজেস এই উদ্যোগকে আনন্দের খবর বলছে।
সম্মেলনের খাবারের একটি ইতিহাস আছে। গ্লাসগোর কপ২৬-এ মাংসপ্রধান খাবারের পাশে জলবায়ু প্রভাবের তথ্য ছিল। দুবাইয়ের কপ২৮-এ তরুণদের কয়েক মাসের প্রচারের পর খাবারের দুই-তৃতীয়াংশ মাংসমুক্ত হয়। বাকুর কপ২৯-এ হয় উল্টো: মাংসমুক্ত খাবার প্রায় ছিলই না, আর মাংস বা দুগ্ধের পদকে নিরামিষ বলে ভুল লেবেল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ব্রাজিলের বেলেমে কপ৩০-এ প্রোভেগের জরিপে দেখা যায়, খাবার ও নাশতার ৫১.২ শতাংশ মাংসমুক্ত ছিল, যা ৪০ শতাংশের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি। তবে ভুল লেবেল, উদ্ভিজ্জ খাবারের বেশি দাম, দুধের বিকল্পের অভাব আর প্রচুর গরুর মাংসের কথাও উঠে আসে।
খাবার কেন আলোচনায়, তার উত্তর সংখ্যায়। গ্রিন কুইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশ আসে কৃষি ও খাদ্য খাত থেকে। প্ল্যান্ট বেসড ট্রিটির নিলগুন এনগিন (Nilgun Engin) বলছেন, প্রাণিজ খাবারের ভাগ ২০ শতাংশ পর্যন্ত। কয়েক সপ্তাহ আগে জাতিসংঘ-সমর্থিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশির ভাগ দেশ ২০৩০ সালের খাদ্য ব্যবস্থার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না।
এখানে যাঁদের বক্তব্য এসেছে, তাঁরা এই প্রচারের সঙ্গেই যুক্ত, আর আলোচনার তুলনায় খাবার ছোট বিষয়। প্রোভেগের জুলিয়েট ট্রঁশো (Juliette Tronchon) বলেছেন, কপ২৮ দেখিয়েছে নেতৃত্ব আর নাগরিক সমাজের চাপ মিললে কী হয়। ৬০ শতাংশ লক্ষ্য পূরণ হয় কি না এবং লেবেল সৎ থাকে কি না, তা জানা যাবে আন্তালিয়াতেই।
ছবি: Maryannewatson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)