সাতক্ষীরার মাঠে পাকা আমন কাটা চলছে, কিন্তু ধান বেচে খরচ উঠছে না চাষিদের। প্রতি বিঘায় ব্যয় হচ্ছে ২৩ থেকে ২৪ হাজার টাকা। ফলন ১০ থেকে ১২ বস্তা, আর ৬০ কেজির প্রতি বস্তার দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। হিসাবে এক বিঘার ধান থেকে সর্বোচ্চ আয় ২১ হাজার ৬০০ টাকা।
সদর উপজেলার নারানজোল গ্রামের কৃষক আজারুল ইসলাম বলেন, এবার বিঘায় প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘তাহলে সারা বছর খাব কী, সংসার চালাব কীভাবে?’ এমন চললে চাষ বন্ধ করে দিতে হবে বলে জানান তিনি।
খরচ বাড়াচ্ছে শ্রমিকের মজুরিও। কৃষক পলাশ হোসেন জানান, এক বিঘার ধান কেটে বাঁধতে প্রায় ৩ হাজার টাকা লাগছে। আট ঘণ্টার জন্য পুরুষ শ্রমিক নেন ৮০০ টাকা, সাত ঘণ্টার জন্য নারী শ্রমিক ৭০০ টাকা। কলারোয়ার কৃষক আতাউর রহমানের দাবি, গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হলেও ধানের দাম বেড়েছে মাত্র ১০০ টাকা। ঋণ শোধ করতে কাটার পরপরই ধান বিক্রি করতে হয় তাঁদের।
ঝাউডাঙ্গা ধানবাজারে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রিপন হোসেন এক বস্তা বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৬৩০ টাকায়। তাঁর অভিযোগ, ডিলারের কাছে সার কিনতে গেলে সার নেই বলে জানানো হয়। ব্যবসায়ী অশিষ ঘোষ বলেন, ধান-চাল বিক্রি হচ্ছে না, চাতালে চাহিদা কম এবং গুদামে পর্যাপ্ত মজুত আছে, তাই নতুন করে কেনার আগ্রহ নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ জানান, এবার ৯৯ হাজার ১৬০ হেক্টরে আমন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। হেক্টরে ৪ দশমিক ৪৭ টন ধরে প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার টন ধান আশা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, কেজিপ্রতি ৩৫ টাকার কমে বিক্রি করলে কৃষকের লোকসানের আশঙ্কা আছে, তবে খড় বিক্রি করে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সরকারি ধান সংগ্রহ জোরদার করতে হবে, প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনতে হবে এবং উপকরণ সহজলভ্য করতে হবে। না হলে আগামীতে অনেকে ধান চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে তাঁদের আশঙ্কা। প্রতিবেদনের তথ্য ঢাকা পোস্টের।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)