রংপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯ থেকে ১৪ টাকায়। অথচ উৎপাদন, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়া মিলিয়ে খরচ পড়ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। কেজিতে লোকসান ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত, আর বাজারে অগ্রিম জাতের নতুন আলু এসে যাওয়ায় দাম আরও কমতে পারে।
গত ২৭ আগস্ট সরকার হিমাগার গেটে কেজিপ্রতি ২২ টাকা দাম নির্ধারণ করলেও তা মিলছে না। রংপুর অঞ্চলে গড় দাম ১২ টাকা। সেখানে ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদনে প্রায় ১৬ টাকা, বস্তা ও পরিবহনে দুই টাকা এবং হিমাগার ভাড়া ছয় টাকা মিলিয়ে খরচ ২৪ টাকা।
বদরগঞ্জের আমরুলবাড়ির চাষি আমিনুল ইসলামের হিমাগারে ৩০০ বস্তা আলু আছে, কেজিতে লোকসান ১২ টাকা। তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে সাতবার আলুতে লোকসান দিয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক আব্দুল কুদ্দুসের খরচ ১৯ থেকে ২০ টাকা, বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪ টাকায়।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে এবার দেশে আলু হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন। ৪০২টি হিমাগার ও ৭০৩টি অহিমায়িত মডেল ঘরে রাখা হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টন। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, তাদের হিমাগারে এখনো ১৫ লাখ টনের বেশি মজুত।
রংপুর বিভাগের ১১৬টি হিমাগারে এখনো ৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৩ টন আলু আছে। জয়পুরহাটে প্রতি বস্তা সংরক্ষণসহ খরচ প্রায় ১,৩০০ টাকা, অথচ ৬০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৮০ টাকায়। বগুড়ায় লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে আলু বের করছেন না, এতে কিছু আলু পচতে শুরু করেছে।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, কৃষক আলু না নিলে তাঁরা ভাড়া পাবেন না, আবার পচন ঠেকাতে মেশিন চালিয়ে খরচও বাড়বে। এই লোকসানের বোঝা নিয়ে আগামী মৌসুমে কীভাবে চাষ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত অনেক চাষি।
ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)