সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৮ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৪%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ত্রিশালে এআই ও সেন্সরে পাঙাশ চাষের পরীক্ষা, উৎপাদন বাড়ার দাবি উপজেলা প্রশাসনের

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসন ২০২৪ সালের নভেম্বরে জানায়, কানিহারী ইউনিয়নের একটি সরকারি পুকুরে সেন্সর, মোবাইল অ্যাপ ও এআই দিয়ে পাঙাশ চাষের পরীক্ষা সফল হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে অল্প জায়গায় তিন থেকে চার গুণ মাছ উৎপাদন সম্ভব এবং পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট দিলেও ৭০ শতাংশ মাছ বাঁচানো যাবে।

ত্রিশালে এআই ও সেন্সরে পাঙাশ চাষের পরীক্ষা, উৎপাদন বাড়ার দাবি উপজেলা প্রশাসনের
মৎস্য

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসন ২০২৪ সালের নভেম্বরে জানায়, সেন্সর, মোবাইল অ্যাপ ও আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে পুকুরে মাছ চাষের একটি কৌশল তারা উদ্ভাবন করেছে। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর জাগো নিউজ২৪ এ খবর প্রকাশ করে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় তিন থেকে চার গুণ মাছ উৎপাদন সম্ভব, কম জমিতে বেশি মাছ চাষ হওয়ায় ফসলি জমি রক্ষা পাবে, আর কেউ মাছ মারার জন্য পুকুরে "গ্যাস ট্যাবলেট" দিলেও তাৎক্ষণিক অক্সিজেন তৈরি করে প্রায় ৭০ শতাংশ মাছ বাঁচানো যাবে। এসব হিসাব প্রকল্প পরিচালনাকারীদের নিজেদের; প্রতিবেদনে এগুলোর কোনো স্বাধীন পরীক্ষার উল্লেখ ছিল না।

কানিহারী ইউনিয়নের পরীক্ষামূলক পুকুর


প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নে ৫২ শতাংশ আয়তনের একটি সরকারি পুকুরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়, এবং সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে তারা এতে সফল হয়েছেন। ওই ৫২ শতাংশ জমিতে এআই প্রযুক্তি স্থাপনে ২৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে চাষি পর্যায়ে ১ একর জমিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে তারা জানান।

প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় এক বছর আগে উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নেয়। একটি সরকারি পুকুরে সেন্সর স্থাপন করা হয় এবং সেন্সরের সঙ্গে যুক্ত করে একটি মোবাইল অ্যাপ বানানো হয়। পুকুরের চারদিকে বসানো হয় খাবার ছিটানোর মেশিন, আর অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে পানির নিচে ও উপরে স্থাপন করা হয় যন্ত্র।

কোন সমস্যার সমাধানে এ উদ্যোগ, সেটিও সংশ্লিষ্টরা ব্যাখ্যা করেন। অনেক চাষি পুকুরে নিয়মিত খাবার দেন, সব ধরনের যত্ন নেন, তবু মাছের কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি হয় না। বিক্রির সময় প্রত্যাশিত উৎপাদন না পাওয়ায় মাছ চাষ করে অনেকে লোকসানের মুখে পড়েন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর কারণ পুকুরের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা না থাকা এবং পুকুরে কী পরিমাণ অক্সিজেন দরকার তা না জানা, যার ফলে পুকুরের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। এ লোকসান থেকে চাষিদের বাঁচাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সে চালিত বিশেষ সেন্সর ও মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়, এবং এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম জায়গায় বেশি মাছ চাষে তারা সফল হয়েছেন বলে জানান।

নির্মাতাদের বর্ণনায় পদ্ধতিটি যেভাবে কাজ করে


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি সার্বক্ষণিক নজর রাখে পুকুরে অক্সিজেনের পরিমাণ ঠিক আছে কি না, অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বাড়ল কি না, এবং কখন কী পরিমাণ খাবার দিতে হবে। খাবার ছিটানোর মেশিন ও অক্সিজেনের যন্ত্র সবই এ প্রযুক্তি পরিচালনা করে। পুকুরে যখন যা প্রয়োজন হয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা চালু হয়ে যায়। গ্রাফের মাধ্যমে নিয়মিত পুকুরের স্বাস্থ্যের তথ্য পাওয়া যায়, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং হাতে কোনো কাজ করতে হয় না।

ত্রিশাল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সামসুজ্জামান মাসুম জাগো নিউজকে বলেন, মাছ চাষে এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মূল উদ্দেশ্য অল্প জায়গায় কীভাবে তিন থেকে চার গুণ মাছ উৎপাদন করা যায়, তা খুঁজে বের করা। তিনি জানান, এ প্রযুক্তিতে পুকুরে প্রয়োজনীয় সেন্সর লাগানো থাকে। সেন্সর থেকে জানা যায় পুকুরে কী পরিমাণ অক্সিজেন আছে, অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে কি না, আর সেন্সরগুলো তাপমাত্রাসহ বিভিন্ন প্যারামিটার সংগ্রহ করে। এরপর পুকুরে কখন কী প্রয়োজন, খাবার দরকার কি না, তাপমাত্রা কেমন, তা সেন্সরের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যায় এবং পুরো ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ পত্রিকাটিকে জানায়, মাছ চাষে এমন প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হয়। দেশে এটি শুরু হলে চাষিরা উপকৃত হবেন, বাড়বে উৎপাদন ও মাছের গুণগত মান।

গভীর পুকুর, শতাংশে বেশি মাছ


প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত মাছ চাষের পুকুরের গভীরতা হয় ৫ থেকে ৬ ফুট, কিন্তু এ পদ্ধতিতে পুকুর ১৮ ফুট পর্যন্ত গভীর করা হয়। এতে অল্প জমিতে বেশি মাছ চাষ করা সম্ভব। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি শতাংশে ১৫০ থেকে ২০০টি পাঙাশ চাষ করা যায়, আর এ পদ্ধতিতে চাষ করা হয় ১ হাজার ২০০ মাছ, খাবারও লাগে কম।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এ পদ্ধতিতে পুকুরটিতে ৭২ হাজার পাঙাশ ছাড়া হয়েছে। ওই অংশে পুকুরটিকে ৫৮ শতাংশের বলা হয়েছে, অথচ অন্য জায়গায় পরীক্ষামূলক পুকুরের আয়তন বলা হয়েছে ৫২ শতাংশ। প্রতিবেদনে এ পার্থক্যের ব্যাখ্যা নেই, তাই এখানে দুটি সংখ্যাই প্রতিবেদনে যেভাবে ছাপা হয়েছিল সেভাবে দেওয়া হলো। পরীক্ষামূলক চাষ সফল হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষি পর্যায়ে প্রযুক্তিটি ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এমন প্রযুক্তি আসার আগে এই উপজেলায় পাঙাশ কীভাবে চাষ হতো, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় আগের এক গবেষণায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের গবেষকেরা ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ত্রিশালের মঠবাড়ী, ধানীখোলা ও সাখুয়া এলাকার ১৫টি পাঙাশ খামারে জরিপ চালান; গবেষণাটি প্রকাশিত হয় জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস সাময়িকীতে। ওই খামারগুলোতে পাঙাশের গড় উৎপাদন ছিল হেক্টরপ্রতি বছরে ৪০ হাজার ৭৬৫ কেজি, খাদ্য রূপান্তর হার (এফসিআর) ছিল ২, আর মাছ সাধারণত ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজন হলে ধরা হতো।

গবেষকেরা উল্লেখ করেন, দেশের আগের এক গবেষণায় মজুদ ঘনত্ব পাওয়া গিয়েছিল হেক্টরপ্রতি ১০ হাজার থেকে ৩১ হাজার পোনা, আর ত্রিশালের জরিপভুক্ত চাষিরা প্রকাশিত গবেষণার চেয়ে বেশি হারে পোনা ছাড়েন, যা ইঙ্গিত দেয় যে এলাকায় মাছ চাষ ধীরে ধীরে নিবিড় হচ্ছিল। একই জরিপে ৬৭ শতাংশ পুকুর গভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। চাষিরা জানান, বেশি তাপমাত্রায় অক্সিজেন কমে যাওয়া ও পানির মান খারাপ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, আর গ্রীষ্মে অতিবৃষ্টিতে পুকুর তলিয়ে যায়।

২০১৬ সালে ত্রিশালের চাষিরা যেসব বাধার কথা বলেছিলেন সেগুলো হলো পুঁজির অভাব, বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব, নিম্নমানের পোনা, খাবারের মান ও খাবারের উচ্চমূল্য, মাছের গায়ে দুর্গন্ধ (অফ-ফ্লেভার) এবং পাঙাশের কম বাজারদর। সে সময় জরিপ এলাকায় পাঙাশের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।

খরচ কত, চাষিদের জন্য কী পরিকল্পনা


কিশোরগঞ্জ ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের মৎস্য ইনস্ট্রাক্টর রনি সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ৫২ শতাংশ জমিতে এআই প্রযুক্তি স্থাপনে ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে ১০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস স্থাপনে ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। চাষি পর্যায়ে ১ একরের জন্য খরচ হবে ৫ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, সেখানে স্থাপিত প্রযুক্তি দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৬৪ কেজি অক্সিজেন তৈরি হবে।

মৎস্য চাষের প্রকৌশলে একটি এয়ারেটরের সক্ষমতা সাধারণত তার "স্ট্যান্ডার্ড অক্সিজেন ট্রান্সফার রেট" দিয়ে বোঝানো হয়: নির্দিষ্ট মানসম্মত পরীক্ষার পরিবেশে যন্ত্রটি এক ঘণ্টায় পানিতে যত কেজি অক্সিজেন যোগ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন রিজিওনাল অ্যাকোয়াকালচার সেন্টারের (এসআরএসি) একটি ফ্যাক্টশিট (প্রকাশনা নম্বর ৩৭০০, "পন্ড এয়ারেশন", ২০০৫) বলছে, পুকুরের বাস্তব পরিবেশে এয়ারেটর পরীক্ষার চেয়ে কম অক্সিজেন পানিতে মেশায়; তাই এ সংখ্যা মূলত একই ধরনের যন্ত্রের তুলনার কাজে লাগে, পুকুরের নকশার হিসাবে নয়। ৬৪ কেজির হিসাবটি কীভাবে পাওয়া গেছে, জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, তারা চাষি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কৃষকদের আগ্রহী করতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে পুকুরে এ পদ্ধতিতে চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আর এসব পুকুরে প্রশাসনের লোকজন সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখবেন বলে তিনি জানান।

গ্যাস ট্যাবলেট নিয়ে দাবি


প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত দাবি ছিল "গ্যাস ট্যাবলেট" নামে বিক্রি হওয়া বিষ দিয়ে পুকুরের মাছ মারা নিয়ে। রনি সাহা বলেন, বাজারে গ্যাস ট্যাবলেট নামে যে বিষ পাওয়া যায়, তা পুকুরের অক্সিজেন কমিয়ে দেয় বা শূন্য করে দেয়, যে কারণে পুকুরের মাছ মারা যায়। তার ভাষ্য, এ প্রযুক্তিতে সার্ভারে দেখাবে পুকুরের অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, তখন যন্ত্রগুলো অক্সিজেন বাড়াতে কাজ শুরু করবে এবং পুকুরে বাতাস তৈরি করে ও পানিতে অক্সিজেন প্রয়োগ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ব্যবস্থায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের দরকার হয় না, কারণ প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাস উৎপাদন করে পুকুরের পানিতে প্রয়োগ করে, এবং পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট দেওয়া হলেও এভাবে ৭০ শতাংশ মাছ বাঁচানো সম্ভব। তবে কোনো পুকুরে বিষ দিয়ে এমন পরীক্ষা চালানো হয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তার বিবরণ নেই; ৭০ শতাংশের হিসাবটি প্রকল্পের নিজস্ব অনুমান।

শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ দেওয়ার খবর দেশে আগেও এসেছে। ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউন জানায়, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে ১২ জানুয়ারি রাতে দুর্বৃত্তরা দুটি পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট দেয়। মাছচাষি জানান, এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে এবং শত্রুতাবশত কেউ এ কাজ করেছে। নন্দীগ্রাম থানার ওসি জানান, এক মাছচাষির দুটি বড় পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের খবর তিনি পেয়েছেন, আর মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে ট্যাবলেটে কোন রাসায়নিক থাকে, তা বলা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (নিওশ) জানায়, ফসফিন একটি বর্ণহীন গ্যাস, যা অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ধূমায়ক (ফিউমিগ্যান্ট) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর গন্ধ রসুন বা পচা মাছের মতো, যদিও বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি গন্ধহীন। ফসফাইড নামে পরিচিত কয়েকটি কঠিন যৌগ থেকে ফসফিন গ্যাস বের হয়। নিওশের তথ্যমতে, শ্বাসের মাধ্যমে ফসফিন শরীরে শোষিত হয়।

বাংলাদেশে পানিতে বিষ দিয়ে মাছ মারা নিষিদ্ধ। মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর অধীনে প্রণীত মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫-এর ৬ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে পানিতে বিষ প্রয়োগ করে, কিংবা বাণিজ্যিক বর্জ্য বা অন্য কোনোভাবে দূষণের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ নিঃশেষ করে, কেউ কোনো মাছ ধ্বংস করতে বা ধ্বংসের চেষ্টা করতে পারবে না।

পুকুরের স্বাস্থ্য ঠিক করে অক্সিজেন ও অ্যামোনিয়া


মৎস্যবিজ্ঞানীরা মাছ চাষে দ্রবীভূত অক্সিজেনকে পানির মানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটির জন এ. হারগ্রিভস ও ক্রেইগ এস. টাকারের লেখা এসআরএসির একটি ফ্যাক্টশিট (প্রকাশনা নম্বর ৪৬০১, ২০০২) ব্যাখ্যা করে, নিবিড় চাষে এর গুরুত্বের কারণ হলো এটি কত দ্রুত বদলাতে পারে: কয়েক ঘণ্টায়, কখনো কয়েক মিনিটেই দ্রবীভূত অক্সিজেন উপযুক্ত মাত্রা থেকে প্রাণঘাতী মাত্রায় নেমে যেতে পারে। এর পেছনে তিনটি কারণ: অক্সিজেন পানিতে খুব বেশি দ্রবীভূত হয় না, তাই পানি সীমিত পরিমাণ অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে; মাছ, প্লাংকটন ও পুকুরের কাদায় থাকা জীব দ্রুত অক্সিজেন খরচ করতে পারে; আর স্থির পানিতে বাতাস থেকে অক্সিজেন খুব ধীরে মেশে।

এসআরএসির এয়ারেশন বিষয়ক ফ্যাক্টশিট আরও জানায়, মাছ চাষের পুকুরে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের পরিমাণ প্রাকৃতিক জলাশয়ের চেয়ে অনেক বেশি, তাই কখনো কখনো অক্সিজেন যত দ্রুত পূরণ হয় তার চেয়ে দ্রুত খরচ হয়ে যায়। অক্সিজেন কতটা কমে এবং কতক্ষণ কম থাকে তার ওপর নির্ভর করে মাছ কম খায়, ধীরে বাড়ে, খাবারকে কম দক্ষতায় দেহের ওজনে রূপান্তর করে, সংক্রামক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়, এমনকি দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। চাষিরা যন্ত্রের সাহায্যে পুকুরে বাতাস মিশিয়ে এ সমস্যা এড়ান।

ত্রিশালের পদ্ধতিতে নজর রাখার দ্বিতীয় সূচক ছিল অ্যামোনিয়া। এসআরএসির প্রকাশনা নম্বর ৪৬০৩, "ম্যানেজিং অ্যামোনিয়া ইন ফিশ পন্ডস" (২০০৪) অনুযায়ী, মাছের পুকুরে অ্যামোনিয়ার প্রধান উৎস মাছের নিজের বর্জ্য নিঃসরণ, আর খাবারের পরিমাণ ও খাবারে আমিষের মাত্রা বাড়লে এর হারও বাড়ে; পুকুরের তলায় পচতে থাকা জৈব পদার্থ থেকেও অ্যামোনিয়া পানিতে আসে। পিএইচ বাড়লে অ্যামোনিয়ার বিষাক্ত, আয়নবিহীন রূপ দ্রুত বাড়ে এবং গরম পানিতে এর পরিমাণ বেশি থাকে। সঠিকভাবে পরিচালিত পুকুরে অ্যামোনিয়া কদাচিৎ প্রাণঘাতী মাত্রায় পৌঁছায়, তবে তার চেয়ে কম মাত্রাতেও মাছের বৃদ্ধি কমে যেতে পারে, খাদ্য রূপান্তর খারাপ হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে। ঘন শৈবালের আস্তরণ হঠাৎ মরে গেলে অ্যামোনিয়া দ্রুত বাড়ে, আর অক্সিজেন কমে যায়।

অক্সিজেন মাপা হয় এমন সেন্সর দিয়ে, যা অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তার ঘনত্বের অনুপাতে বৈদ্যুতিক বা আলোক সংকেত তৈরি করে। এসআরএসি পোলারোগ্রাফিক, গ্যালভানিক ও ফাইবার-অপটিক ধরনের সেন্সরের বর্ণনা দিয়েছে এবং যেসব বাণিজ্যিক খামারে নিয়মিত অনেক পুকুর পরীক্ষা করতে হয়, সেখানে দ্রবীভূত অক্সিজেন মিটারকে অপরিহার্য সরঞ্জাম বলেছে।

পানিতে অক্সিজেন মাপার একটি হাতে বহনযোগ্য দ্রবীভূত অক্সিজেন মিটার; ছবিটি পটভূমি হিসেবে দেওয়া, ত্রিশালে তোলা নয়। ছবি: নুনো নোগেইরা / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.৫)
পানিতে অক্সিজেন মাপার একটি হাতে বহনযোগ্য দ্রবীভূত অক্সিজেন মিটার; ছবিটি পটভূমি হিসেবে দেওয়া, ত্রিশালে তোলা নয়। ছবি: নুনো নোগেইরা / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.৫)

এয়ারেশন যন্ত্র নিয়ে এসআরএসির প্রকাশনা নম্বর ৩৭০০ বলছে, বড় পুকুরে সবচেয়ে প্রচলিত হলো প্যাডেলহুইল এয়ারেটর, আর এক একরের কম আয়তনের ছোট পুকুরে সাধারণত ভার্টিক্যাল পাম্প এয়ারেটর ব্যবহার করা হয়। পুকুরের তলা থেকে বুদবুদ ছাড়ে এমন ডিফিউজার গভীর পানিতে বেশ কার্যকর হতে পারে, কারণ ওপরের পানির চাপে বেশি অক্সিজেন দ্রবীভূত হয় এবং বুদবুদ পানিতে বেশিক্ষণ থাকে; তবে অগভীর পুকুরে এগুলো কমই ব্যবহৃত হয়। বিশুদ্ধ অক্সিজেন ব্যবহারকারী ব্যবস্থা দ্রুত অক্সিজেন মেশাতে পারে, কিন্তু বড় পুকুরে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য এর চালানোর খরচ অনেক বেশি। ত্রিশালের পুকুরে কোন ধরনের যন্ত্র বসানো হয়েছিল, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

ইন্দোনেশিয়ার বাংকায় একটি চিংড়ি পুকুরে চলমান এক হর্সপাওয়ারের প্যাডেলহুইল এয়ারেটর; ছবিটি যন্ত্রের ধরন বোঝাতে দেওয়া, ত্রিশালে তোলা নয়। ছবি: হারমান গুনাওয়ান / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)
ইন্দোনেশিয়ার বাংকায় একটি চিংড়ি পুকুরে চলমান এক হর্সপাওয়ারের প্যাডেলহুইল এয়ারেটর; ছবিটি যন্ত্রের ধরন বোঝাতে দেওয়া, ত্রিশালে তোলা নয়। ছবি: হারমান গুনাওয়ান / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)

পাঙাশ: পরীক্ষার কেন্দ্রে যে মাছ


পাঙাশ (Pangasianodon hypophthalmus) ইংরেজিতে স্ট্রাইপড ক্যাটফিশ বা ইরিডিসেন্ট শার্ক নামে পরিচিত এক ধরনের ক্যাটফিশ, যার আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেকং ও চাও ফ্রায়া নদী অববাহিকা। পূর্ণবয়স্ক মাছ প্রায় ১৩০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৪৪ কেজি পর্যন্ত ওজনের হতে পারে। এর পটকা (সুইম ব্লাডার) বাতাস থেকে শ্বাস নেওয়ার অঙ্গ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মাছটি কম অক্সিজেনের পানিও সহ্য করতে পারে। প্রকৃতিতে আইইউসিএন একে বিপন্ন (২০১১ সালের মূল্যায়ন) তালিকায় রেখেছে, যদিও খাদ্য হিসেবে এটি বিপুল পরিমাণে চাষ হয়।

বাকৃবির গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে থাইল্যান্ড থেকে পাঙাশ বাংলাদেশে আনা হয়, এবং ১৯৯১ সালে বাকৃবি ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএফআরআই) প্রথম এর কৃত্রিম প্রজনন সফল হয়। দ্রুত বৃদ্ধি, সহজ চাষপদ্ধতি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও নানা পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতার জন্য মাছটি জনপ্রিয় হয়। এ অঞ্চলে পাঙাশ চাষ প্রথম শুরু হয় ত্রিশালে, বেসরকারি উদ্যোগে: জরিপে দেখা যায়, অবস্থাপন্ন কিছু মানুষ, প্রধানত নির্মাণ ঠিকাদারেরা, ইজারা নেওয়া পুকুরে এ চাষ শুরু করেন; মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও মুনাফা দেখে স্থানীয় চাষি ও শিক্ষিত তরুণেরা এগিয়ে আসেন এবং কয়েক বছরের মধ্যে চাষ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুর দিকে বহু খামার নিয়ে ধানীখোলা ইউনিয়ন ছিল এর অন্যতম কেন্দ্র।

এই চাষের প্রাণকেন্দ্র এখনো ময়মনসিংহ। ওয়ার্ল্ডফিশের গবেষকসহ একটি দলের গবেষণা, যা ২০২২ সালে অ্যাকোয়াকালচার ইন্টারন্যাশনাল সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়, জানায় যে বাংলাদেশের মোট পুকুরে চাষ করা পাঙাশের ৪৩ শতাংশ উৎপাদিত হয় ময়মনসিংহ বিভাগে (২০১৮ সালের হিসাব)। গবেষণায় দেখা যায়, সেখানকার বেশির ভাগ মাছচাষি অভিজ্ঞ এবং মিশ্রচাষ করেন, আর একটি উৎপাদন চক্রে পাঙাশের দৈহিক ওজন তেলাপিয়ার চেয়ে প্রায় চার গুণ দ্রুত বাড়ে, যা চাষিদের পাঙাশ চাষে বড় প্রণোদনা দেয়।

প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার লম্বা ও প্রায় ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি স্ট্রাইপড ক্যাটফিশ (Pangasianodon hypophthalmus), বাংলাদেশে যে প্রজাতিটি পাঙাশ নামে পরিচিত। ছবি: স্ট্যাটিকডি / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)
প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার লম্বা ও প্রায় ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি স্ট্রাইপড ক্যাটফিশ (Pangasianodon hypophthalmus), বাংলাদেশে যে প্রজাতিটি পাঙাশ নামে পরিচিত। ছবি: স্ট্যাটিকডি / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৩.০)

ত্রিশাল ও তাকে ঘিরে মাছের অর্থনীতি


বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ত্রিশাল ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলা, যার আয়তন ৩৩৮.৪৫ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা, দক্ষিণে ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলা, পূর্বে ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ও গফরগাঁও উপজেলা এবং পশ্চিমে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা। প্রধান নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। ত্রিশাল থানা গঠিত হয় ১৯০৯ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। এখানে একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে, যার একটি কানিহারী, যেখানে পরীক্ষামূলক পুকুরটি অবস্থিত। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৩০৮, আর বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে এখানকার ৬২.৬৯ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এ উপজেলায় অবস্থিত।

পরীক্ষাটি এমন সময়ে হয়, যখন খরচের চাপে মাছচাষিরা হিমশিম খাচ্ছিলেন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টন, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার টন, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট মাছের ৫৭.৩৯ শতাংশ এসেছিল চাষ (অ্যাকোয়াকালচার) থেকে। তবে চাষিরা পত্রিকাটিকে ভিন্ন চিত্র দেন: করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর মাছের খাবারের দাম ৬৬ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় পৌঁছেছে, যা তাদের মুনাফা খেয়ে ফেলছে। ৩০টি ঘেরে পাঙাশ, রুই, কাতলা ও পাবদা চাষ করা ত্রিশালের এক চাষি জানান, মহামারির আগে বছরে ১ হাজার ২০০ টন মাছ উৎপাদন করলেও পরে তিনি তা ৮০০ টনে নামিয়ে আনেন। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পত্রিকাটিকে বলেন, সরকারি উৎপাদনের তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাশীগঞ্জ বাজারের কাছে খিরো নদী। ছবি: অনুপ সাদি / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাশীগঞ্জ বাজারের কাছে খিরো নদী। ছবি: অনুপ সাদি / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

অন্য জায়গায় মাছ চাষে সেন্সর ও এআই


ত্রিশালের পুকুরের পেছনের ধারণাটি নিয়ে কয়েক বছর ধরেই গবেষণা চলছে। ২০২৪ সালে ফুড কেমিস্ট্রি: এক্স সাময়িকীতে প্রকাশিত "এক্সপ্লোরিং অপরচুনিটিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ইন অ্যাকোয়াকালচার টু মিট ইনক্রিজিং ফুড ডিমান্ড" শীর্ষক একটি পর্যালোচনায় বলা হয়, তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ ও অ্যামোনিয়া মাপার সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রোগ্রাম এমন ধরন ও অসংগতি খুঁজে বের করতে পারে, যা পানির মানের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়; ফলে মাছের ক্ষতি হওয়ার আগেই চাষি ব্যবস্থা নিতে পারেন। লেখকদের মতে, সার্বক্ষণিক রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ হাতে করা পরীক্ষার চেয়ে বেশি নির্ভুল ও সময়োপযোগী তথ্য দিতে পারে, আর এআই-নির্ভর খাবার ব্যবস্থাপনা খাবারের অপচয় কমিয়ে মাছের বৃদ্ধি বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এমবেডেড সিস্টেম রিসার্চ সেন্টারের গবেষকেরা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হেলিয়ন সাময়িকীতে গলদা চিংড়ির খামারের জন্য একটি রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেন। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার একটি খামারে বসানো তাদের যন্ত্র পানির পিএইচ, তাপমাত্রা, মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থ (টিডিএস), বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা ও লবণাক্ততা মেপে তথ্য ক্লাউডে পাঠাত, এবং কোনো মান উপযুক্ত সীমার বাইরে গেলে একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে চাষিকে সতর্ক করত। ৯০ দিনের পরীক্ষায় যন্ত্রটি ৩ হাজার ২৪০টি রেকর্ড সংগ্রহ করে, আর পরদিনের মানের পূর্বাভাসে এর রিগ্রেশন মডেলের আর-স্কয়ার্ড ছিল ০.৯৪। লেখকেরা লেখেন, দেশে এ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের জন্য কম খরচের সমাধান, স্থানীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ এবং বিভিন্ন আকারের খামারের উপযোগী সুবিধা জরুরি হবে।

ছবি: Ujjalmc / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)। ওপরের ছবিটি দেশের একটি পুকুরে পাঙাশ মাছ ধরার, প্রতীকী; ত্রিশালের পরীক্ষামূলক পুকুরের নয়।

সূত্র: জাগো নিউজ২৪ (১১ নভেম্বর ২০২৪), বাংলাপিডিয়া (ত্রিশাল উপজেলা), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা (জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস, খণ্ড ১১, ২০১৮), অ্যাকোয়াকালচার ইন্টারন্যাশনাল (২০২২, ওয়ার্ল্ডফিশ ডিজিটাল আর্কাইভ), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (১৭ ডিসেম্বর ২০২৩), বাংলা ট্রিবিউন (১৪ জানুয়ারি ২০২০), মৎস্য অধিদপ্তর (মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫), সাউদার্ন রিজিওনাল অ্যাকোয়াকালচার সেন্টার (প্রকাশনা ৩৭০০, ৪৬০১ ও ৪৬০৩), যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি-নিওশ (ফসফিন), ফুড কেমিস্ট্রি: এক্স (২০২৪), হেলিয়ন (সেপ্টেম্বর ২০২৪), উইকিপিডিয়া (ইরিডিসেন্ট শার্ক)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষে উপকূলের কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে: পাইকগাছায় খুশী কবির

করুণাময়ী সর্দারের ৩৬তম মৃত্যুদিবসের সভায় নিজেরা করি-র সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, বহিরাগতদের চিংড়ি ঘের ও হ্যাচারিতে কৃষিজমি ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এলাকাবাসীর মূল দাবি ২২ নম্বর পোল্ডারে স্থায়ী বেড়িবাঁধ।

সমকাল৮ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

শুঁটকি ঘিরে জীবিকা, মাছ শুকানোর মাচায় শুকায় জেলের স্বপ্ন

দূর থেকে শুঁটকি তৈরির এই কর্মযজ্ঞকে নিছক মাছ শুকানোর কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি মাচার পেছনে রয়েছে একেকটি পরিবারের গল্প। কারও জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা, কারও কাছে এটি বংশপরম্পরায় পাওয়া পেশা, আবার কারও কাছে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। উপকূলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা এভাবেই জড়িয়ে

জাগো নিউজ ২৪৭ নভেম্বর ২০২৬১১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

দেখতে সুন্দর হলেও ধরা-খাওয়া যায় না এই মাছ

মাছের নাম সিংহ। বনের রাজা নয় বরং সামুদ্রিক বিষাক্ত প্রাণী। সিংহমাছ পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত মাছের মধ্যে অন্যতম। বিষাক্ত হলেও এদের রয়েছে আকর্ষণীয় সৌন্দর্য। জাপানের ফুজি পর্বতের ছায়ায় রয়েছে সুরুগা উপসাগর। ৪০ মাইল দীর্ঘ ও ১৫ থেকে ৩৫ মাইল চওড়া এই সুরুগা উপসাগরেই অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে সিংহমাছের বাস।

জাগো নিউজ ২৪৭ নভেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)